মনিরুল হক, কোচবিহার: এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত শুনানি ও নথি সংশোধনের আতঙ্কে ফের এক মর্মান্তিক মৃত্যু। কোচবিহারের দিনহাটা ব্লকের ফলিমারি এলাকায় এক গৃহশিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। মৃতের নাম সুভাষ বর্মন (৪৫)। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে গোটা এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুভাষ বর্মন পেশায় একজন গৃহশিক্ষক ছিলেন। পরিবার সূত্রে অভিযোগ, স্ত্রীর এসআইআর সংক্রান্ত নথিতে ত্রুটির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানসিক চাপে ভুগছিলেন। মৃতের বাবা শশীকান্ত বর্মনের অভিযোগ, তাঁর ছেলের স্ত্রীর নথিতে বাবার নামের জায়গায় দাদার নাম উল্লেখ ছিল। এই সামান্য ভুল সংশোধন না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপদের আশঙ্কা করছিলেন সুভাষ।

পরিবারের দাবি, সুভাষ বর্মনের আশঙ্কা ছিল এই নথিগত সমস্যার জেরে যদি তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশে পাঠানো হয় অথবা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়! তাহলে তাঁদের দুই নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই গভীর উদ্বেগ ও মানসিক চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে পরিবারের অভিযোগ। 

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলও মৌসুমি পারভিন জানান, সুভাষ বর্মনের নিজের পরিচয় সংক্রান্ত নথিতে কোনও সমস্যা ছিল না। কেবলমাত্র তাঁর স্ত্রীর ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নামের জায়গায় দাদার নাম উল্লেখ ছিল। বিষয়টি সংশোধনযোগ্য এবং তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তবুও মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেননি ওই গৃহশিক্ষক।

ঘটনার খবর পেয়ে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। নির্বাচন কমিশনের এই অমানবিক প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ, অসহায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।” এলাকাবাসীদের দাবি, সুভাষ বর্মন ছিলেন শিক্ষিত ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। শুধুমাত্র নথিতে সামান্য ভুল এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের আশঙ্কা থেকেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।