আজকাল ওয়েবডেস্ক: এনুমারেশন ফর্ম জমা পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পর, এবার রাজ্যে চলছে শুনানি পর্ব। এই শুনানি পর্বেও রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে নানা অভিযোগ। কোথাও অভিযোগ বয়স্কদের শুনানি লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার, কোথাও অভিযোগ মৃত্যুর। এই পরিস্থিতিতে, ভিন রাজ্যে যেসব ভোটার রয়েছেন, তাঁদের সশরীরে শুনানি এড়াতে নয়া পরিকল্পনা করছে কমিশন। সূত্রের খবর তেমনটাই।
বুধবার জানা গিয়েছে, ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা অন্য কর্মসূত্রে ভিন রাজ্য রয়েছেন এই ধরনের ব্যক্তিদের শুনানির ক্ষেত্রে সশরীরে হাজিরা এড়াতে বিশেষ ভাবনা ভাবছে কমিশন। মূলত তাঁদের জন্য একটি পোর্টাল তৈরি করার চিন্তা ভাবনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ডকুমেন্টেশন করা হবে।
যদিও নির্বাচন কমিশন সেই পোর্টালের বিষয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। নির্বাচন কমিশন এই প্রসঙ্গে আরও জানিয়েছে, ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের কিংবা পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারের কাছে মেসেজ পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
কীভাবে ওই পোর্টালের মাধ্যমে শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে? সূত্রের তথ্য-
পোর্টাল তৈরি হলে, ভিন রাজ্যে থাকা ভোটাররা ওই পোর্টালে লগ ইন করে তথ্য আপলোড করতে পারবেন।
তাছাড়া আরও একটি পথ খোলা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। তথ্য, বিএলও'র হোয়াটসঅ্যাপে নির্বাচন কমিশনের নম্বারে নথি আপলোড করে দিতে পারেন ওই ভোটার।
কমিশন প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর, তা খতিয়ে দেখবে।
তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ওই ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত তালিকায় তোলা হবে কি না।
এসআইআর শুনানি ঘিরে আতঙ্কের আবহ জেলায় জেলায়। সেই আবহেই মর্মান্তিক দৃশ্য প্রকাশ্যে আসছে বারবার। মঙ্গলবার দেখা গিয়েছিল, কয়েকজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা অ্যাম্বুল্যান্সে করে, স্ট্রেচারে শুয়ে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছন। ঘটনাস্থল নদিয়ায় চাপড়ার সিকরা কলোনি। স্ট্রেচারে শুয়ে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছন ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা। পরিবারের তরফে জানানো হয়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই তাঁর। যা ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। হাঁটার ক্ষমতা প্রায় নেই। তারপরও ওই বৃদ্ধকে এভাবে যেতে হয় শুনানি কেন্দ্রে। পরিবারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বাড়িতে যাতে শুনানির ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনে নাকি কর্ণপাত করেনি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর ফর্ম পৌঁছে দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট BLO-রা। সেই ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করে জমাও দেওয়া হয়েছিল। খসড়া ভোটার তালিকায় ওই বৃদ্ধার নাম থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় শুনানির নোটিশ। নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ ছিল তাঁর শুনানি চাপড়া বিডিও অফিসে। অসুস্থ অবস্থায় হাঁটাচলা করতে অক্ষম হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাঁকে স্ট্রেচারে করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার নাম হাচিনা শেখ। তিনি নদিয়ার চাপড়া থানার শিক্ষা ৯৩ নম্বর বুথ কলোনির বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এসআইআর-এর কাজ শুরু হওয়ার পর এলাকার অন্যান্য পরিবারের মতো তাঁদের বাড়িতেও ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। সেই ফর্ম যথারীতি পূরণ করে জমা দেওয়ার পর খসড়া তালিকায় হাচিনা শেখের নাম ওঠে। তা সত্ত্বেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়।
অপর ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের কান্দিতে। সেখানেও অ্যাম্বুল্যান্সে করে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছন দুই বৃদ্ধা। তাঁদের একজনের বয়স ৮০ আর অন্যজনের বয়স ৭২ বছর। দুই পরিবারের তরফেই কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
