আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত রাজ্যজুড়ে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা ভোটার তালিকায় নামের কিছু গরমিল থাকায় শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের নওদা থানার অন্তর্গত বালি-১ পঞ্চায়েতের টুঙ্গি-ফরাজীপাড়া  গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল শেখ ওরফে কালু (৫৮)। কিন্তু প্রথম শুনানিতে  নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উপযুক্ত নথি দিয়ে 'সন্তুষ্ট' করতে না পারায় ফের মোজাম্মেলকে শুনানির জন্য ডাকা হবে বলে জানানো হয়েছিল। 


আর এই আতঙ্কেই মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মোজাম্মেল মারা গিয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। 


মৃত মোজাম্মেলের পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে,  ২০০২ -এর ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল এবং এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তাঁকে এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। ওই পরিবারের অভিযোগ,  নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে  মোজাম্মেলের ইংরেজি নামের নিচে বাংলা বানানে তাঁর ডাকনাম কালু লেখা রয়েছে এবং এখান থেকে সমস্ত বিভ্রান্তির শুরু। 


মৃত ওই ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য জুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর মোজাম্মেলকে বাংলায় লেখা এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। ছাপানো সেই ফর্মে  মোজাম্মেলের ডাকনাম কালু শেখ লেখা রয়েছে। যদিও ওই ফর্মে তাঁর এপিক নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য সঠিক লেখা রয়েছে। 


 
ফর্ম পূরণ করার সময় মোজাম্মেল কালু শেখের পরিবর্তে নিজের প্রকৃত নাম মোজাম্মেল শেখ লিখে সেই নথি বিএলও-র কাছে জমা করেছিলেন। 


সূত্রের খবর এনুমারেশন ফর্মে ছাপা নামের সঙ্গে  মোজাম্মেলের নামের কোনও মিল না থাকায়  গত ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে তাঁকে উপযুক্ত নথি নিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। 

 

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, গত ৩১ডিসেম্বর শুনানিতে মোজাম্মেল তাঁর যাবতীয় নথি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানিতে নির্বাচনের কমিশনের আধিকারিকরা মোজাম্মেলের  সমস্ত নথি দেখার পর জানিয়েছিলেন তাঁকে আরও তিনবার শুনানিতে হাজিরা দিতে হতে পারে। 


মৃতের পরিবারের এক সদস্য বলেন, শুনানিতে হাজির হওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে এই আশঙ্কায় মোজাম্মেল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এবং ওই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও মোজাম্মেলকে অনেকবারই বুঝিয়েছিলেন নামের এই সামান্য ত্রুটি আগামী দিন তাঁরা ঠিক করে দেবেন। কিন্তু   নির্বাচন কমিশনের দোষে ভোটার তালিকার নথিতে নামের ভুল থাকার কারণে মোজাম্মেলের আতঙ্ক যাচ্ছিল না। পরিবারের দাবি সেই আতঙ্ক থেকেই মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। 

&t=1486s

তৃণমূল কংগ্রেসের নওদা বিধানসভার পর্যবেক্ষক মোশারফ হোসেন মধু বলেন, "নির্বাচন কমিশন ভুল করে মোজাম্মেলের ডাকনাম কালুর নামে এনুমারেশন ফর্মে চাপিয়েছে। এর কোনও দায়িত্ব ওই ব্যক্তির ঘাড়ে বর্তায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তিকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় নিজের নাম থাকবে কিনা এই আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মোজাম্মেলের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি দলকে তীব্র আক্রমণ করে মোশারফ হোসেন বলেন , "সারা বাংলায় আর কত প্রাণ কাড়বে নির্বাচন কমিশন? তারা বিজেপির নির্দেশে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে রাজ্য জুড়ে এসআইআর করছে। আর তার ফল ভুগছেন সাধারণ মানুষ। "