আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস, দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রথম থেকেই সুর চড়িয়েছেন এসআইআর নিয়ে। এদিন কোচবিহারে অভিষেক যখন মনে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় 'মৃত' হিসেবে চিহ্নিত দশজনকে মঞ্চে এনে এসআইআর নিয়ে সুর চড়িয়েছেন, তার ঘণ্টাখানেক পরে, একই ইস্যুতে সাংবাদিক বৈঠক করে সুর চড়ালেন দলের সুপ্রিমো, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর কটাক্ষের তীর নির্বাচন কমিশন, গেরুয়া শিবির, নির্বাচন কমিশনারের দিকে। বললেন, বিজেপির সঙ্গে একযোগে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। বললেন, ভোটমুখী বিজেপি-বিরোধী রাজ্যগুলি থেকে ভোটার বাদ দেওয়া হচ্ছে এক তরফাভাবে। মনে করালেন, সকলকে মানতে হবে নিয়ম। একসঙ্গে, এক ঝাঁক নিয়ে যাওয়া মানেই অবৈধ। প্রশ্ন করলেন, কেবল বাংলাতেই কেন মাইক্রো অবজার্ভার? বার্তা দিলেন, 'ভয় পয়ায়ার কিছু নেই।' 


এদিন মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ৫৪লক্ষ নাম বাদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বলছে ইআরও নাকি বাদ দিয়েছে, কোনও ইআরও জানে না। ৫৪ লক্ষ নামের মধ্যে বেশিরভাগ সমস্ত বৈধ ভোটার। যাঁর নাম ডিলিট করা হয়েছে, তাঁদের কিন্তু ফর্ম সেভেন, এইট পূরণ করার অধিকার রয়েছে। কেউ জানতেই পারল না, ৫৪ লক্ষ কাদের নাম বাদ দেওয়া হল। কোন দলকে এই তালিকা দেওয়া হয়নি। বিজেপি পেতে পারে, ওরাই তো সব করছে। আমরা সেই খসড়া তালিকা আজ পর্যন্ত দেখতে পাইনি। ৫৪ লক্ষ নামের নথি কাউকে দেওয়া হয়নি।'


তিনি বলেন, 'যদি আপনারা ডিসক্লোজ না করেন, কাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা জানবেন কী করে। বিনা কারণে, বিনা কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে, বেআইনি ভাবে, অনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের টার্গেট করা হয়েছে। যাঁরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছেন, পদবী বদল হয়েছে। অনেক মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা ঘর বদল করেছেন।  ইলেকশন কমিশন বিজেপির স্বার্থে, নিজের পরিবারের স্বার্থে মানুষকে নিয়ে খেলা করেছে নির্বাচন কমিশন।'

">


অন্যান্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে এনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, 'একই জিনিস হয়েছিল মহারাষ্ট্রে, বিহারে, হরিয়ানায়। ধরতে পারেনি কেউ। ফাইনাল তালিকা বেরনোর পর বিচার পাওয়া যায়নি। তখন আর কিছু করা যায়নি। এখানেও ওটাই পরিকল্পনা।'

 

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এদিন তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে খবর এসেছে, যাঁদের হিয়ারিং-এ ডাকা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে কয়েক লক্ষ নাম লগ ইন করেছিলএন ডিএম'রা। সব ব্লকড করে দেওয়া হয়েছে। নাম বাতিল হয়েছে। জঘন্য ষড়যন্ত্র। নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। জনগণ ঠিক করবে কাকে নির্বাচিত করবে কাকে করবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ভোটের আগেই অর্ধেক লোকের ভোট কেটে নির্বাচিত সরকার ঠিক করে দিচ্ছে কৈফিয়ত দিতে হবে।'

 


মাইক্রো অবজার্ভারদের কটাক্ষ করে বলেন, 'খবর এসেছে, প্রতিটা ব্লকে ব্লকে, মাইক্রো অবজার্ভার বসে আছে, গদ্দার, বিজেপির দলদাস, যাওয়া কেউ গেলেই বলছে এন্টি বেঙ্গলি, রাষ্ট্র বিরোধী, লিখে দিচ্ছে কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু যে তথ্য নিয়ে যাচ্ছে, কোনও রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। মানুষ যখন তাঁর তথ্য নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের এক তরফা ভাবে বলে দেওয়া হচ্ছে এলিজেবল নয়। বিএলএ টু'দের ঢোকার কথা ছিল। বিজেপির না থাকায়, বাকিদের ঢুকতে দিচ্ছে না।'  

 

সঙ্গেই বলেন, খবর আছে, আগে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে, লজিস্টিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নামে আরও এক কোটি ৩৩ লক্ষ থেকে ৩৬ লক্ষ নামের তালিকা করেছে, যে তালিকা কোনও দলকে দেয়নি।