আজকাল ওয়েবডেস্ক: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরিতে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও'রা। রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় এদিন তা স্পষ্ট করে দেয় শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম শুনানিতে এদিন শীর্ষ আদালত জানায়,যেহেতু নতুন করে সরকারি অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জমা দেওয়া নথি যাচাই করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। সেই কারণে, কিছু আবেদনকারীর প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালত নির্দেশ দেয়, ১৪ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার পর আরও এক সপ্তাহ সময় ERO-দের দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা নথি যাচাই সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এই নির্দেশিকার পরেই, জল্পনা তুঙ্গে। অতিরিক্ত সাতদিন সময় দেওয়া হলে, রাজ্যে কি তাহলে পিছিয়ে যাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। যদিও এই বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কিংবা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে এখনও কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
শুনানি শেষে এদিন শীর্ষ আদালত বেশকিছু অন্তবর্তী নির্দেশ জারি করেছে-
১. পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আজ যে ৮,৫৫৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারের তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে, তাঁরা সবাই আগামিকাল বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DRO)-এর কাছে রিপোর্ট করবেন।
২. নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর কাছে এই অধিকার থাকবে যে, প্রয়োজনে বিদ্যমান ERO ও AERO-দের পরিবর্তে নতুন অফিসার নিয়োগ করা যাবে অথবা যোগ্য বিবেচিত হলে বর্তমান অফিসারদের পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে।
৩. রাজ্য সরকারের এই অফিসারদের সংক্ষিপ্তভাবে বায়োডাটা যাচাই করার পর, প্রয়োজনে এক বা দুই দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তাঁরা মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কাজ করতে পারেন।
৪. মাইক্রো অবজারভার বা রাজ্য সরকারের এই অফিসারদের দায়িত্ব হবে শুধুমাত্র ERO-দের সহায়তা করা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ERO-র হাতেই থাকবে।
৫. যেহেতু নতুন করে সরকারি অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জমা দেওয়া নথি যাচাই করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। সেই কারণে, কিছু আবেদনকারীর প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালত নির্দেশ দিচ্ছে যে ১৪ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার পর আরও এক সপ্তাহ সময় ERO-দের দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা নথি যাচাই সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সূত্রের খবর, এদিনের শুনানিতে বিচারপতি রাজ্য পুলিশের ডিজিপি'কে শো-কজ করেছেন। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, কমিশনের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা অভিযোগ জানানোর পরেও আপত্তিপত্র (ফর্ম সংক্রান্ত কাগজ) পোড়ানোর ঘটনায় কোনও FIR দায়ের করা হয়নি।
এর বিরোধিতা করে সিনিয়র অ্যাডভোকেট গুরুস্বামী তীব্র আপত্তি জানান। সূত্রের খবর, এই প্রসঙ্গেই প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা রাজ্যের ডিজিপিকে শোকজ করছি, যাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি অ্যাফিডেভিট দাখিল করে ব্যাখ্যা দেন, নির্বাচন কমিশনের কাউন্টার অ্যাফিডেভিটে উত্থাপিত অভিযোগের পরেও তাঁর তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। '
