আজকাল ওয়েবডেস্ক: শৈলরানির অরণ্যে বিরল এক কালো হরিণের দেখা মিলেছে। যা রাজ্য বন দপ্তরের কাছে বড়সড় সাফল্য হিসেবেই ধরা হচ্ছে। বছরের শুরুতেই এমন একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করল।

পাহাড়ি জঙ্গলে এর আগে একাধিকবার কালো চিতাবাঘ বা মেলানিস্টিক লেপার্ডের উপস্থিতি নজরে এলেও, এই প্রথম রাজ্যে মেলানিস্টিক হরিণের দেখা মিলল বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কার্শিয়াং বন বিভাগের অন্তর্গত ডাউহিল ফরেস্ট এলাকায় জঙ্গলের ভিতরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় ওই বিরল কালো হরিণটিকে।

খবর পেয়ে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কার্শিয়াং বন বিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে নিজেই হরিণটির ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বন দপ্তরের পাশাপাশি বন্যপ্রাণপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যেও প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বন দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কালো রঙের হরিণটি মেলানিজম নামক এক বিরল জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ফল। যেমন কালো চিতাবাঘকে মেলানিস্টিক লেপার্ড বলা হয়, তেমনই জেনেটিক কারণে হরিণের শরীরেও অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি হলে তাদের গায়ের রং সম্পূর্ণ কালো হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় দশ লক্ষ হরিণের মধ্যে মাত্র একটির ক্ষেত্রেই এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। এই কারণে এই ধরনের হরিণ অত্যন্ত দুর্লভ। দেখা পাওয়া হরিণটি মূলত বার্কিং ডিয়ার বা কাঁকর হরিণ প্রজাতির।

পাহাড়ের গভীর অরণ্যে এদের অস্তিত্ব থাকলেও, এতদিন পর্যন্ত তা গবেষণার পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম প্রকাশ্যে এমন মেলানিস্টিক বার্কিং ডিয়ারের দেখা মিলল বলে নিশ্চিত করেছে বন দপ্তর।

বিরল এই প্রাণীর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। বন দপ্তরের আশঙ্কা, এমন ব্যতিক্রমী হরিণ চোরাশিকারিদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

তাই হরিণটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহলদারি, ট্র্যাপ ক্যামেরা এবং বনকর্মীদের বিশেষ নজরদারি চালু করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছর দার্জিলিং পাহাড়ের ডাউহিল, বাগোরা ও মিরিক অঞ্চলে একাধিকবার কালো চিতাবাঘের দেখা মিলেছিল।

এই বছর সেই তালিকায় যুক্ত হল মেলানিস্টিক হরিণ। এই বিষয়ে ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে বলেন, ‘এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। এই ধরনের হরিণ খুবই বিরল। তাই ওর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’