মণিরুল হক, কোচবিহার: জেলা রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তাঁর পদত্যাগের খবরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা ও আলোচনা। 


দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কোচবিহার জেলা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই নেতার হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নিজেই চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা দলকে জানিয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের অন্দরে সাংগঠনিক রদবদল এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পুরসভার পরিষেবা ব্যবস্থা আরও গতিশীল করা এবং প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো নিয়ে দলের অন্দরে সাম্প্রতিক আলোচনা এই পদত্যাগের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 
প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম অভিজ্ঞ নেতা। এক সময় তিনি জেলার দলীয় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন দক্ষতার সঙ্গে। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে জয়ের পর তাঁকেই কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান করা হয়। তাঁর কার্যকালে শহরের একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়। যা শহরবাসীর নজর কেড়েছিল।

চেয়ারম্যান পদে তাঁর পদত্যাগের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কে হচ্ছেন কোচবিহার পুরসভার পরবর্তী চেয়ারম্যান? রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ সাহার নাম জোরালো ভাবে আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও দলীয় স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সব মিলিয়ে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পদত্যাগ কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

জানা গেছে, শনিবার সকালে কোচবিহার সদর মহকুমা শাসকের বাড়িতে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজেই জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরের পদ ছেড়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‌দল আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছে, আমি তা পালন করেছি। দলের স্বার্থই আমার কাছে সবার আগে।’‌