আজকাল ওয়েবডেস্ক: অমর্ত্য সেনকে নির্বাচন কমিশনের তরফে নোটিশ পাঠানো নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই ইস্যুতে এবার সরব হলেন এসআরডিএ-এর চেয়ারম্যান তথা বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। বৃহস্পতিবার বোলপুরের শতাব্দী প্রাচীন বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠান ও আনন্দমেলায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এসআইআর নিয়ে অমর্ত্য সেনের সঙ্গে যেটা হচ্ছে সেটা নির্বাচন কমিশনের ভুল হয়েছে। অন্যায় হয়েছে। আমরা সর্বতোভাবে ওঁর পাশে আছি।
অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়ে একই সুরে কথা বলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। তিনি বলেন, এসআইআর-এর নামে মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে, যেখান থেকে ছাড় পেলেন না অমর্ত্য সেনও। মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেও দেওয়া হচ্ছে না। শুধু অমর্ত্য সেন নন, এই হয়রানির জন্য অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছেন। যাঁরা মারা গেলেন, তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে? কেন্দ্র সরকার বা নির্বাচন কমিশন কেউই নিচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে যেভাবে ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিষয়টি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।
এদিন বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠান ও আনন্দমেলার উদ্বোধন হয়। এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনরা। বিধায়কের উন্নয়ন তহবিলের অর্থে নবনির্মিত মধ্যাহ্নভোজন কক্ষের দ্বারোদ্ঘাটন করেন অনুব্রত মণ্ডল। এরপর তিনি বলেন, বোলপুরের সমস্ত প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভূত সংস্কার করে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনেও রাজনীতি করা হচ্ছে, যেটা মোটেই কাম্য নয়।
অমর্ত্য সেন প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, অভিষেক ব্যানার্জি আগেই যা বলার বলেছেন। তবে অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকে এভাবে হেনস্থা করা ঠিক নয়। নির্বাচন কমিশনের ভুল হয়েছে। আমরা সর্বতোভাবে ওঁর পাশে রয়েছি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার রামপুরহাটের জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর। তিনি তখন সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা বলেন বলেই কি অমর্ত্য সেনকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে! তিনি বলেছিলেন, বিজেপি সরকার কোনও দিন মানুষের সঙ্গে মেশেনি। দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। এসআইআর নিয়ে শুনানি চালাচ্ছে। অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এদের কাছে আর কী আশা করা যায়। বাংলার মানুষের চোখের জল বৃথা যাবে না।
তবে অমর্ত্য সেনের বয়সের কথা মাথায় রেখে ঠিক পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ শান্তিনিকেতনের 'প্রতিচী' বাড়িতে নির্বাচন কমিশনের তিন আধিকারিক যান। এসআইআর সংক্রান্ত একটি কাগজ দিতেই তাঁরা গিয়েছিলেন।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে নিয়ে এই ইস্যু ভোটের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
