আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুলিশ সুপারের অফিসের ঢিল ছোড়া দুরত্বে দিনেদুপুরে খুন হাতুড়ে ডাক্তার। হাড়হিম এই ঘটনা বর্ধমানের বাদামতলায় মঙ্গলবার দুপুরে ঘটেছে। শহরজুড়ে চাঞ্চল্য। খুনের পর খুনি নিজেই সটান থানায় ঢুকে যায়। চেম্বারের মধ্যে ডাক্তার খুন করে সটান পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ। মৃত এই হাতুড়ে ডাক্তারের নাম রাজা ভৌমিক(৪৫)। বাড়ি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগে। খুনে অভিযুক্ত জীবন রুইদাসকে পুলিশ আটক করেছে। ধৃতের বাড়ি শক্তিগড় থানার আমড়া গ্রামে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতোই চেম্বার খোলেন ডাক্তার রাজা ভৌমিক। এর খানিকক্ষণ পরে ঢোকে জীবন। তার ব্যাগে ছিল একটি কাটারি। চেম্বারে ঢুকে অতর্কিতে আক্রমণ করে সে। কাটারি দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় চেম্বারের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন রাজা। এরপর চেম্বার থেকে বেরিয়ে জীবন নিজেই হাজির হয় বর্ধমান থানায়। সেখানে তার এই ডাক্তার খুনের কথা কবুল করে পুলিশের কাছে। পুলিশ তাকে নিয়ে যায় বাদামতলার রাজা ভৌমিকের চেম্বারে। সেখান থেকে পুলিশ রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য বাদামতলার চেম্বারে যে এতবড় ঘটনা ঘটেছে তার কিছুই টের পাননি। পুলিশ আসার পর তাঁরা ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জীবন রুইদাসের ঠাকুরমা মাস খানেক আগে মারা যান। তার ধারণা হয় হাতুড়ে ডাক্তার রাজা ভৌমিকের কাছে চিকিৎসা করাতে গিয়েই তার ঠাকুরমা মারা গেছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান সেই রাগে মঙ্গলবার জীবন ব্যাগে করে কাটারি নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি ওই ডাক্তারের মাথায় আঘাত করে। বছর দুয়েক আগে হাতুড়ে চিকিৎসক রাজা ভৌমিক বাদামতলায় চেম্বার খুলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
