আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন পর্ব মেটার পর বাংলায় পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ রাজ্য জুড়ে পালিত হল 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস'। এদিন হুগলির তারকেশ্বরে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেখানেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। 

 

বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের এখনও দেড় মাস হয়নি। এরই মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার যেসব পদক্ষেপ করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলায় চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যেখানে রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। 

">

 

প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পেয়েই আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী। এদিন রাতে সমাজমাধ্যমে চিঠিগুলির ছবি পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, ''পশ্চিমবঙ্গ দিবস'-এর ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির থেকে চিঠি পেয়ে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমাদের প্রিয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁর ভরসা, অনুপ্রেরণা, উৎসাহ আমাদের সকলকে নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ।' 

 

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, 'এই বছরের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এমন একটি নির্বাচনী রায় দিয়েছিলেন, যা চিরস্মরণীয়। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অসাধারণ গতি এবং সমমর্মিতার সঙ্গে কাজ করেছে। আমি এই প্রচেষ্টার জন্য আপনাকে এবং আপনার দলকে অভিনন্দন জানাই।' 

 

এই চিঠিতেই বাংলায় 'আয়ুষ্মান ভারত' চালু, মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণ, 'অন্নপূর্ণা যোজনা' এবং সপ্তম বেতন কমিশনের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

 

প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে লিখেছেন, 'ভারত যখনই নতুন চিন্তাভাবনা, নবজাগরণ, শৈল্পিক উৎকর্ষ কিংবা আধ্যাত্মিক চেতনার অন্বেষণ করেছে, এই বাংলাই অতুলনীয় সৃজনশীলতায় সেই পথকে আলোকিত করেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মহাজাগরণের অগ্রভাগে থেকে এই মাটি দেশকে বহু পণ্ডিত, দার্শনিক ও বিজ্ঞানী উপহার দিয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই মাটি থেকেই গর্জে উঠেছিল ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি। কাকতালীয়ভাবে, এই বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর (সার্ধশতবর্ষ) উদযাপিত হচ্ছে। স্লোভাক গায়কেরা যেভাবে এই গানটি গেয়েছেন, তা বন্দে মাতরম-এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রমাণ করে।' 

 

এরপরই প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, 'জল জীবন মিশন ও অতীতে আটকে থাকা পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্র প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। রেলওয়ের সামগ্রিক ভোলবদলের জন্য প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আরও ৩০,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'