আজকাল ওয়েবডেস্ক : রেলের 'আন্ডারপাস' তৈরি হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে শতাব্দী প্রাচীন বাজার । গৃহহীন হতে পারেন কয়েকশো বাসিন্দা। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার ফরাক্কার মহাদেব নগরে বিক্ষোভ দেখালেন কয়েকশো বাসিন্দা, হাজির ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে পুনর্বাসন না দিয়ে সম্প্রতি রেলের তরফ থেকে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় 'আন্ডারপাস' নির্মাণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এরফলে গৃহহীন হতে পারেন কয়েকশো মানুষ। শুক্রবার তারই প্রতিবাদে দক্ষিণ মহাদেব নগর এলাকায় বিক্ষোভ দেখালেন এক বিরাট জনতা।
রেল সূত্রে খবর , ফরাক্কা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ মহাদেবনগর, টিনটিনা এবং অর্জুনপুরে বর্তমান রেলগেটগুলি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সেখানে রেল দপ্তরের তরফ থেকে নতুন 'আন্ডারপাস' তৈরি করে দেওয়া হবে।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য মহসিনা খাতুনের অভিযোগ," রেল দপ্তরের তরফে ফরাক্কা-আজিমগঞ্জ শাখায় এখনও পর্যন্ত ৫২ টি 'আন্ডারপাস' তৈরি করা হয়েছে। অবৈজ্ঞানিকভাবে এই 'আন্ডারপাস' তৈরি করার পর বেশিরভাগই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং জল জমে থাকার কারণে বর্ষাকালে চার মাস এগুলি ব্যবহার করা যায় না।" তিনি আরও বলেন,"এর মধ্যে আবার রেল দপ্তর ফরাক্কা ব্লকের দক্ষিণ মহাদেবনগর , টিনটিনা এবং অর্জুনপুরে রেলগেট ভেঙে 'আন্ডারপাস' তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। মহাদেবনগরে বর্তমানে যেখানে 'আন্ডারপাস' তৈরি পরিকল্পনা চলছে তার থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে আরও একটি 'আন্ডারপাস' রয়েছে। নতুন 'আন্ডারপাস' তৈরি হলে বড় গাড়ি আর মহাদেবনগরে ঢুকতে পারবে না। এছাড়া শতাব্দী প্রাচীন অর্জুনপুর বাজার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।"
স্থানীয় তৃণমূল নেতা সহিদুল ইসলামের অভিযোগ," সামশেরগঞ্জে এবং ফরাক্কা এলাকায় গঙ্গা নদীর ভাঙনে যে সমস্ত পরিবার উদ্বাস্তু হয়েছে তাদের বেশিরভাগ এখন এই রেলগেটগুলির কাছে সরকারি জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। রেল এদেরকে পুনর্বাসন না দিয়ে জোর করে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করছে।" তিনি আরও বলেন," স্থানীয় বাসিন্দাদের 'আন্ডারপাসের' কোনও প্রয়োজন নেই। এলাকাতে নতুন 'আন্ডারপাস' যাতে না হয় সেই দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই মালদা ডিআরএমকে এলাকাবাসী একটি ডেপুটেশন দিয়েছে। কিন্তু সমস্ত কিছুকে উপেক্ষা করে গরীব মানুষদেরকে উচ্ছেদ করে 'আন্ডারপাস' নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন,"আন্ডারপাস তৈরিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই কিন্তু গরিব মানুষদের পুনর্বাসন দিয়ে এই কাজ করতে হবে। এছাড়া 'আন্ডারপাস' পুরোপুরি চালুর আগে বর্তমানে চালু রেল গেটগুলি বন্ধ করা যাবে না। রেল আমাদের দাবি না মানলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব।"
