আজকাল ওয়েবডেস্ক:  হকার উচ্ছেদে জীবিকা হারানো মানুষদের জন্যই এবার অভিনব উদ্যোগ হকার স্পেশাল কর্মসংস্থানের হাট। ২ আগস্ট অশোকনগরে বসতে চলেছে এই কাজের হাট। রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন রেলস্টেশন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। 


জেলার একাধিক এলাকায় বুলডোজার অভিযানের জেরে বহু হকার জীবিকা হারিয়েছেন। সংসার চালাতে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার। এবার সেই হকারদের নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে অশোকনগরে আয়োজন করা হচ্ছে একটি বিশেষ ‘হকার স্পেশাল কর্মসংস্থানের হাট’।


এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা সঞ্জয় জানান, আগামী ২ আগস্ট অশোকনগরের ৮ নম্বর মোড় সংলগ্ন কমলা নেহেরু স্কুলে এই কর্মসংস্থানের হাট অনুষ্ঠিত হবে। মূল লক্ষ্য, জীবিকা হারানো হকারদের উপযুক্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া।


উদ্যোক্তাদের দাবি, এখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা কম বা একেবারেই না থাকলেও আবেদন করা যাবে। যাঁদের কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণ নেই, এমনকি যাঁদের বয়স তুলনামূলক বেশি, তাঁদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ থাকবে। কাজ করার মানসিকতা থাকলেই মিলবে চাকরি।কর্মসংস্থানের এই হাটে লজিস্টিক, ম্যানুফ্যাকচারিং, ফুড ডেলিভারি, ওয়্যারহাউস-সহ কনস্ট্রাকশন একাধিক ক্ষেত্রে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। উদ্যোক্তার বক্তব্য, চাকরির সুযোগের সংখ্যার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই; যোগ্যতা অনুযায়ী বহু প্রার্থীকে বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগের চেষ্টা করা হবে। 


হকার উচ্ছেদের পর যাঁদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য কোনওরকম মূল্য দিতে হবে না চাকরিপ্রার্থীদের বলেও জানিয়ে দেন সঞ্জয়বাবু। উদ্যোক্তার আশা, কর্মসংস্থানের এই হাট বহু বেকার ও জীবিকা হারানো মানুষের নতুন করে স্বনির্ভর হওয়ার পথ খুলে দেবে। 


প্রসঙ্গত, এর আগেও কর্মসংস্থানের হাট এর আয়োজন করে বহু চাকরি প্রার্থীদের চাকরি দিয়েছেন নিজে সরকারি চাকরি করা সঞ্জয় দাস। তিনি জানান, চাকরি পাওয়ার আগে তিনি যখন বেকার ছিলেন সেই সময় একজন বেকারের জ্বালা অনুভব করতে পেরেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে, আরও অন্যান্য সমাজের বেকার চাকরি প্রার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই তার এই ভাবনা। 


এই আয়োজনের যাবতীয় খরচ সঞ্জয়বাবু নিজেই গেটের থেকে খরচ করেন। ফলে হকার স্পেশাল এই কর্মসংস্থানের হাট, জেলার নানা প্রান্তে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের মুখে হাসি ফোটানোর সুযোগ করে দেবে বলেই আশা।