আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্বঘোষণা মতোই বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে পৌঁছে কর্ণসুবর্ণ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  ১০ জুলাই মুর্শিদাবাদে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফের জেলায় মুখ্যমন্ত্রী। 

গত ১৭  জুলাই বহরমপুর থানার কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে কাটোয়া-নিমতিতা লোকালের ধাক্কায় প্রাণ হারান মোট ৫ জন। মৃতদের মধ্যে চারজন স্কুল পড়ুয়া এবং  একজন সাধারণ পথচারী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরই রেল ও রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে নিহতদের পরিবারের হাতে  রাজ্য সরকারের ক্ষতিপূরণের ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান।

সভামঞ্চ থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের গাফিলতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যে গেটম্যানের গাফিলতিতে ফুলের মতো শিশুগুলোর মৃত্যু হল, তার আইনত চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা করব। এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশের ভাষা নেই। পরিবারগুলোর পাশে রয়েছি, কিন্তু অর্থ দিয়ে এই ক্ষতিপূরণ সভব নয়। তবুও সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে, আমরা মানবিক। ” 

প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি জানান, রেল ও পুলিশ জানিয়েছে গেটম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেছিলেন।  উনি ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন। জেল হেফাজতে থাকাকালীনই তদন্ত শেষ করে দোষী গেটম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে বলেও এদিন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমবেদনা আর চোখের জল ছাড়া এই পরিবারগুলোর জন্য আমার আর কিছুই দেওয়ার নেই। তবে তাঁরা আমার কাছে যে সাহায্য চেয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যতটা সম্ভব তা করে দেওয়া হবে। কিছু দায়িত্ব আমি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও দিয়ে গিয়েছি।এই পরিবারগুলো যাতে একাকীত্ব অনুভব না করে, সেই দায়িত্ব আমাদের সকলকেই নিতে হবে। পাশাপাশি আমাদের সরকারের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষও নজরে রাখবেন।”

আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর যাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁদের বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা করা হয়েছে। এখনও দু’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন ,"আমি পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছি জেলে থাকাকালীন অভিযুক্ত গেটম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দিতে হবে। 'কাস্টডি ট্রায়াল' করে যাতে মৃত্যুদণ্ড হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে। " গোটা বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী বেলডাঙার বিজেপি বিধায়ক ভরত ঝাওড়-কে দিয়ে যান।  
 

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, 'কর্ণসুবর্ণ রেলগেটের সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য জেলাশাসক রেলের সঙ্গে কথা বলবেন। যদি প্রয়োজন হয় আমি নিজে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।' সূত্রের খবর, রেলের তরফে ইতিমধ্যেই গোবিন্দপুর-কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।'  কর্ণসুবর্ণ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এখনও ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত দু'জনের চিকিৎসা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন।