আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবাস যোজনায় কাটমানি খাওয়ার অভিযোগে কাউন্সিলরকে না পেয়ে তার সাগরেদকে বেধড়ক জুতোপেটা করার ঘটনা ঘটল দুবরাজপুরে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের দুবরাজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে উত্তেজিত মহিলারা যেভাবে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিলেন, তা নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুবরাজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ভাস্কর রুজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ, কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, কারও কাছ থেকে ১৫ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। গরিব মানুষ বহুদিন ধরেই সেই টাকা ফেরতের আশায় অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ জমতে থাকে এলাকাবাসীদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কাউন্সিলর ভাস্কর রুজ ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁকে সামনে না পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা ধনঞ্জয় গড়াই ওরফে ধনু মাস্টারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত জনতা তাঁকে জুতোপেটা করতে শুরু করেন। পরে তাঁকে মারধরও করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যতদিন না সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে। এক আন্দোলনকারী মহিলার কথায়, গরিব মানুষের হকের টাকা যারা লুট করেছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।

রাজ্যে পালা বদল হওয়ার পরেই তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে সড়ক হয়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কাটমানি, কোথাও দুর্নীতি, কোথাও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের নেতাদের রক্তচক্ষু দেখানো শুরু করেছে আম জনতা। এমনকী, বেশ কিছু ক্ষেত্রে বীরভূম জেলায় তৃণমূল নেতাদের ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নতুন করে দুবরাজপুরের এই জুতোটার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি ও কাটমানি ইস্যুতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। একসময় যাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেত মানুষ, এখন তাঁদের বিরুদ্ধেই সরাসরি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন সাধারণ মানুষ। দুবরাজপুরের এই ঘটনা সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন অনেকে।

ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় পৌঁছায়। পুলিশ ধনু মাস্টারকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। তবে এই ঘটনার পর থেকেই দুবরাজপুর পৌরসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে জেলা প্রশাসনেরও।