আজকাল ওয়েব়েস্ক: মুর্শিদাবাদের পর এবার হুগলি। সিঙ্গুরের বাসিন্দা এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হল বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা গিয়েছে, শেখ সইদুল্লা নামে ওই ব্যক্তি হুগলি জেলার সিঙ্গুরের দেওয়ানভেড়ি গ্রামের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে থাকতেন।
তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশে ঘর থেকে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ইতিমধ্যেই, শেখ সইদুল্লার মৃতদেহ গ্রামে এসে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়েছে ঝাড়খন্ডে। কাজ করতে গিয়ে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খন্ডে 'খুন' মুর্শিদাবাদের এক যুবক, অভিযোগ তেমনটাই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে গোটা জেলা জুড়ে। মৃত যুবকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি বেলডাঙা থানার অন্তর্গত সুজাপুর-তাতলাপাড়া গ্রামে।
জানা গিয়েছে, ওই যুবক ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ছিলেন। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হওয়া এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খণ্ডে ফেরিওলার কাজে কর্মরত যুবককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বেলডাঙার সুজাপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভ, পথ অবরোধের কারণে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী প্রধান সড়কে ব্যপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
সেই সঙ্গে বেলডাঙা স্টেশনে রেল অবরোধও করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ফলে সকাল থেকেই শিয়ালদহ -লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বেলডাঙা থানার পুলিশ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও অবরোধ তুলতে অস্বীকার করেছেন স্থানীয়রা।
এর আগে, মুর্শিদাবাদ থেকে চেন্নাইতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে এক যুবকের 'খুন' হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত ওই যুবকের নাম আমাই মাঝি (২৮)।
বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার হাড়োয়া পঞ্চায়েতের গাম্ভীরা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা আমাই ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর সময় চেন্নাই-এর কাছে তাম্বারাম নামে একটি এলাকায় বহুতল নির্মাণের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সোমবার বিকেলে সেখানেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
মৃত ওই যুবকের বাড়িতে বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রী ছাড়াও তিন নাবালক সন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিলেন আমাই। চেন্নাইতে কাজ করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় অথৈ জলে পড়ে গোটা পরিবার।
চেন্নাই থেকে তাঁর দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসার আর্থিক সঙ্গতি পরিবারের না থাকায় গোটা গ্রাম মঙ্গলবার সকাল থেকে একত্রিত হয়ে চাঁদা তুলে অর্থ জোগাড় করে চেন্নাই থেকে তাঁর দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ আমাইকে চেন্নাইতে খুন করা হয়েছে। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে তারপর মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে আনা হবে।
