আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোচবিহারের দিনহাটায় এক বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানুষ মেরে খাওয়ার উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে।

ইতিমধ্যেই, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে স্থানীয় একটি মেলার কাছেই একটি পুকুরের ধারে গলাকাটা অবস্থায় দেহটি উদ্ধার হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা পুকুরের ধারে অভিযুক্তকে মৃতদেহ ধুতে দেখে সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। এরপরই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির কোনও নির্দিষ্ট বাড়ি ছিল না। এলাকাতেই ঘুরে বেড়াতেন তিনি, স্থানীয় শ্মশানঘাটের কাছেই বসবাস করতেন বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি দিনহাটার সীমান্ত সংলগ্ন কুড়শাহাট এলাকার একটি প্রত্যন্ত শ্মশান থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয়হীন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃতদেহটির গলায় ও কাঁধে গভীর ক্ষতের চিহ্ন ছিল, যা দেখে প্রথম থেকেই খুনের সন্দেহ দানা বাঁধে। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে দিনহাটা সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ এবং দ্রুত একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাত করে বৃদ্ধকে খুন করেন। খুনের পর মৃতদেহটি একটি পানীয় জলের কলের কাছে ধুয়ে পরে পুকুরের ধারে লুকিয়ে রাখা হয়।

অভিযুক্তের নাম ফিরদৌস আলম। তিনি ওই এলাকার থোরাইখানা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় খুন করে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, খুনের পর মৃতদেহটি নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে সে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ছিল মৃত ব্যক্তির মাংস খাওয়া।

পুলিশ আরও জানায়, শ্মশানঘাটের কাছে একা বসবাস করায় নিহত ব্যক্তি অভিযুক্তের কাছে সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠেছিলেন। রবিবার রাতে ফেরদৌস আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, অভিযুক্ত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, মৃতদেহের মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই খুন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।’ এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযুক্তকে এর আগেও একাধিকবার নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল।

তবে তার বিরুদ্ধে আগে কোনও মামলা নথিভুক্ত ছিল না। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃতের ঘাড়ের পিছনে গভীর কাটার দাগ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থলটি প্রত্যন্ত হওয়ায় কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।