আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে শুক্রবার পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

হাজরায় সভামঞ্চ থেকে এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে একহাত নিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইডির রেড চলাকালীন প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী।

সেখান থেকে সোজা চলে আসেন সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নিয়ে তোলপাড় হয়ে যায় রাজ্য রাজনীতি।

তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনা নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন তিনি কোনও ভুল করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমি যা করেছি তৃণমূলের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি।’

আসলে কী ঘটেছিল বৃহস্পতিবার? এবার সভামঞ্চ থেকে তারই বিবরণ শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা ব্যানার্জির কথায়, 'আমি খবরটা শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম, ওরা এসেছে কিছু জানতে বা কিছু দেখতে। আমি প্রতীককে ফোন করলাম। দেখলাম, ওর ফোন বেজে গেল, ফোনটা ধরল না। তখন আমার মনে হল, আমাদের দলের নথিপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছে না তো? আইপ্যাক এখন আমাদের দলের পরামর্শদাতা সংস্থা, ভোট স্ট্র্যাটেজিও ওরাই দেখে। আমি তড়িঘড়ি গেলাম। আরে তোমরা তো এসেছ সকাল ৬টায়, আমি গিয়েছি যখন ১২টা বাজে। এতক্ষণে তো সব নিয়ে চলে গিয়েছ! এসআইআরের তথ্য, ভোটারদের তথ্য, বিএলএ-দের নাম, ফোন নম্বর – এসব চুরি করতে এসেছিলে তোমরা।'

এরপরই মমতার হুঙ্কার, 'তুমি খুন করতে এলে আত্মরক্ষার অধিকার আছে আমাদের। চোরের মতো এসেছিলে কেন? সব তথ্য আমার অফিস থেকে চুরি করতে চাইছিলে। এসআইআরের তথ্য, ভোটারের তথ্য, বিএলএ-দের তথ্য।দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে আমি ওখানে গিয়েছি।যা করেছি, কোনও অন্যায় করিনি।” 

বৃহস্পতিবার ইডির বিরুদ্ধে নির্বাচনী তথ্য লুঠের অভিযোগ আনেন মমতা। তৃণমূলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শুক্রবার যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিলে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এদিন দুপুরে প্রবল জনসমাগমের মধ্যে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি কোনও ভুল করেননি। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে।

তার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন তিনি। ততক্ষণে অনেক কিছুই হয়ে যেতে পারত। তিনি জানালেন, ‘ইডি তো ভোরবেলা গিয়েছিল। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে ওরা চুরি করেছে। ওখানে আমাদের পার্টির স্ট্র্যাটেজি ছিল। সাধারণ মানুষের দরখাস্ত ছিল।’

তবে শুধু ইডিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী এদিন নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিজেপিকেও একহাত নিয়েছেন। নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘কয়লার টাকা কে খায়? অমিত শাহ খায়। কী করে খায়? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়। গদ্দার দত্তক সন্তান হয়ে গেছে। সঙ্গে আছে আর এক জগন্নাথ। জগন্নাথের মাধ্যমে টাকা যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। সেই টাকা যায় অমিত শাহের কাছে।’ এমনকী, পেনড্রাইভ ফাঁস করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে দেন।’