মিল্টন সেন: চন্দননগরের গঙ্গাবক্ষে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো! "সংস্কারের পাশাপাশি আলো দিয়ে সাজানো হবে গঙ্গার ঘাটগুলিকে। পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে এরকম নানান একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে", সোমবার গঙ্গাবক্ষ থেকে গঙ্গার পাড় সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর এই কথা বলেছেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ।

চন্দনগর বিধানসভা এলাকায় গঙ্গা দূষণ, ভাঙন রোধের উদ্যোগ। একইসঙ্গে সাবেক ফরাস ডাঙ্গার পর্যটন পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে আগ্রহী রাজ্যের নতুন সরকার। এই লক্ষ্যে সোমবার সকালে চন্দনগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ এবং হুগলি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা লঞ্চে করে যৌথভাবে গঙ্গার পার সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এদিন সকালে তাঁরা লঞ্চে করে চন্দনগর থেকে ভদ্রেশ্বর পর্যন্ত গঙ্গা পার এবং সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন চন্দননগর পুর নিগমের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার অতিরিক্ত জেলাশাসক দিলীপ মিশ্র, মহকুমা শাসক সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।

ঐতিহাসিক এই শহরে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক আসেন। তাই পর্যটন মানোন্নয়নের পাশাপাশি নদীর বর্তমান অবস্থাও খতিয়ে দেখেন তাঁরা। শহরের বিভিন্ন নর্দমার জল সরাসরি গঙ্গায় পড়ছে। এর ফলে গঙ্গা দূষণ বাড়ছে। 

চন্দনগর স্ট্যান্ড সহ একাধিক জায়গায় গঙ্গার পাড়ে ভাঙন অব্যাহত। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে ওই প্রতিনিধি দল। চন্দননগরের শ্মশান ঘাট, জোড়া ঘাট এবং তেলিনিপাড়া ঘাটের সংস্কারের পাশাপাশি এই ঘাটগুলিতে আলোকসজ্জার চিন্তাভাবনার জানানো হয়েছে। 

এর জেরে রাতের সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়বে। চন্দনগরে মৎস্যজীবীদের এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিষয়টিও পরিদর্শনকারী দলের নজরে এসেছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।

এদিন পরিদর্শন শেষে বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন,"নতুন সরকারের একটাই লক্ষ্য, উন্নয়ন ও বিকাশ। শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটার পর একটা উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছেন। বুলেটের গতিতে পশ্চিমবাংলা কে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী রকেটের গতিতে সেই বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিধায়কের অভিযোগ, গঙ্গারপাড় থেকে মাটি চুরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘাট গুলির কোনও সংস্কার হয়নি। স্নান করতে গিয়ে বহু মানুষের দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো জগত বিখ্যাত। সবচেয়ে পুরনো পুজো হলো আদিমা। সেই আদিমা যে গঙ্গার ঘাটে বিসর্জন হয়, তারও কোনও সংস্কার হয়নি। ৩৪ বছরের বাম সরকার এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার এসব নিয়ে কোনদিনও ভাবেনি। জগদ্ধাত্রী পূজার সময় প্রচুর পর্যটকরা ভিড় করেন চন্দননগরে তাদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা করবেন জানিয়েছেন বিধায়ক।

 

ছবি পার্থ রাহা।