আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েকমাসে বারেবারে সামনে এসেছে একই ছবি। রাজ্যের শাসক দল, খোদ মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার ভিন রাজ্যে বাংলাভাষিদের উপর আক্রমণ নিয়ে সরব হয়েছেন। এবার ফের একই ঘটনার অভিযোগ। সূত্রের খবর, এবার বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে হেনস্থা পুরুলিয়ার আট শ্রমিককে।
সূত্রের খবর, আটজনের মধ্যে মুফাসল থানার বাসিন্দা ৬ জন এবং আরশা থানার বাসিন্দা ২ জন। ছত্তিশগড় রাজ্যের সুরজপুর জেলার জয় দুর্গা বেকারিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। চারজন নাবালক-সহ মোট আটজন হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধেয়। বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের উপর আক্রমণ চালানো হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের হস্তক্ষেপে আপাতত তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর সূত্রের।
জানা গিয়েছে, ওই আট শ্রমিক হলেন-
শেখ আসলাম (৩০ বছর), পুরুলিয়ার চেপরি গ্রামের বাসিন্দা। শেখ জসিম (৪২ বছর), তিনিও চেপরি গ্রামের বাসিন্দা। শেখ বাবি (২৩ বছর), শেখ জুলফিকার (২১ বছর), সাহি (১৫ বছর), আরবাজ কাজী (১৫ বছর)। সকলেই চেপরি গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়াও হেনস্থার শিকার শেখ মিনার (১৪ বছর), শেখ ইসমাইল (1৭ বছর)।
শেখ আসলাম জানিয়েছেন, তাঁরা যেখানে থাকতেন, সেখানে আচমকা বাড়ি এবং কাজ ছেড়ে দিতে বলা হয়। তার মাঝেই আচমকা বজরং দলের অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন এসে হামলা চালায়। আইডি প্রুফ দেখানোর পরেও পাকিস্তানি, বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় থানায়। রবিবার থেকে, মঙ্গলবার পর্যন্ত তাঁদের থানাতেই আটকে রাখা হয়। বুধবার তাঁরা পুরুলিয়া পৌঁছন বলে জানিয়েছেন।
ডিসেম্বরের শেষে, ওড়িশার সম্বলপুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশা স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীর হাতে মার খেয়ে গত বুধবার রাতে মৃত্যু হয় মুর্শিদাবাদের সুতি থানার চকবাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা নামে এক যুবকের। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগে ফের একবার ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের চার পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের চার পরিযায়ী শ্রমিককে ধরার পর, তাঁদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরবর্তীকালে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা উদ্ধার পেলেও প্রাণহানির আশঙ্কায় তাঁর আর ওড়িশায় থাকেননি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং বেলডাঙ্গা বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা, ওই চার পরিযায়ী শ্রমিক ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ফিরে এসেছেন। মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ঝারসুগুদা জেলার একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে। বছরখানেক আগে বেলডাঙ্গা এবং রেজিনগর থানা এলাকার বাসিন্দা মহিবুর ইসলাম, শহিদুল ইসলাম-সহ আরও বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক ওড়িশার বিভিন্ন জেলায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই কাজের মাঝে, তাঁদের উপর চড়াও হয়ে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ।
