শ্রেয়সী পাল : আগামী একুশে জুলাই শহীদ দিবসের প্রস্তুতি সভা করতে এসে রবিবার মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের জেলা পরিষদ ডাকবাংলো অনুষ্ঠান বাড়িতে 'ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেস' এবং এনসিপিআই দলের বিধায়ক এবং সাংসদদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন 'মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের' নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি। তৃণমূল সাংসদ আজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যারা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বেইমানি করে অন্য দলে নাম লিখেছে তাঁদের 'এক্সপায়ারি ডেট' ঠিক হয়ে গিয়েছে। ২০২৯ সালের এপ্রিল মাসের পর শুভেন্দু অধিকারী ওদের লাথি মেরে বের করে দেবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা এলাকায় একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা করতে এসে কল্যাণ ব্যানার্জি আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন অপূর্ব সরকার ডেভিডের জন্য। আজ আরও এক প্রস্থ হয়ে গিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি ,মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন সেই সমস্ত তৃণমূল বিধায়ক সাংসদদের 'এক্সপায়ারি ডেট' ঠিক করে দিলেন।
আজকের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন,"কতগুলো অশিক্ষিত লোক একসঙ্গে গিয়েছে। তাঁরা দলের নিয়ম-কানুন কিছু জানে না।"
'ঋতব্রত পন্থী'দের প্রকৃত তৃণমূল হওয়ার দারিকে নস্যাৎ করে দিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন,"২২মার্চ ২০২৬ নির্বাচন কমিশনকে তৃণমূলের যে সংবিধান দেওয়া রয়েছে তা এরা জানেনা। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এরাই মমতার দেওয়া 'সিম্বল' নিয়ে দলীয় প্রার্থী হয়ে লড়াই করেছিল। এখন মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করছে। লজ্জা লাগে না? আগে পদত্যাগ করুন তারপর দেখব।"
'বিক্ষুব্ধ' তৃণমূলের অন্যতম নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির একটি ভিডিও প্রসঙ্গ উত্থাপন করে কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন," একটি বালিশের সঙ্গে উনি যা করেছেন তার জন্য উনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছেন। গিনেস বুকে ওঁর নাম চলে গিয়েছে। উনি যা করেছেন উনিশ-কুড়ি বছরের ছেলেরাও তা করেনা।"
এরপর কল্যাণ ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে বহরমপুর কেন্দ্রে জয়ী সাংসদ ইউসুফ পাঠানকেও এক হাত নান। তিনি বলেন," পার্লামেন্টে থাকলে উনি চুপ করে থাকেন, না হলে বিদেশে ক্রিকেট খেলতে যান।" বিক্ষুব্ধ সাংসদের উদ্দেশ্যে কল্যাণ ব্যানার্জির প্রশ্ন, এমপি হিসেবে সমস্ত সুবিধা নিচ্ছেন কিন্তু এলাকার জন্য কী করছেন ?
এরপরই তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রাখেন,"এনসিপিআই দল করলেন কিন্তু কলকাতায় দলের একটা বৈঠক করতে পারলেন না যেখানে কুড়ি জন লোক হয়।"
কল্যাণ ব্যানার্জি আরও বলেন ,"আখরুজ্জামান (ঋতব্রত তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক) ভোটের আগে বলেছিলেন আমাকে ভোট না দিন মমতা ব্যানার্জিকে ভোট দিন। এখন তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে ধর্ষক ঋত-র কাছে কেন গেলেন?"
তৃণমূল সাংসদ আজ পরিষ্কার জানিয়ে দেন ,"বাইরণ থেকে আখরুজ্জামান, কী যেন সব নাম রয়েছে তাঁদের সকলের এক্সপায়ারি ডেট' ঠিক হয়ে গিয়েছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের পর শুভেন্দু অধিকারী ওঁদের লাথি মেরে বার করে দেবে।"
















