আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে, শুক্রবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাইরে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ দেখাচ্ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। ধর্নায় বসেছিলেন তাঁরা। কিছুক্ষণ পর, সাংসদদের সরিয়ে দিতে যায় পুলিশ। তখনই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সাংসদদের টেনে-হিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তারপরেই ঘটনায় সুর চড়ান দলের সুপ্রিমো, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দা জানিয়ে পোস্ট করেছেন তিনি।
মমতা লিখেছেন, 'আমাদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যে লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা আইন প্রয়োগ নয়। এটি হল ইউনিফর্মের অহংকার। এটি গণতন্ত্র, বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।'
তারসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'যখন বিজেপি নেতারা প্রতিবাদ করেন, তখন তাঁরা লাল গালিচা এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধা আশা করেন। যখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আওয়াজ তোলেন, তখন তাঁদের টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, আটক করা হয় এবং অপমান করা হয়। এটা স্পষ্ট করে বলা যাক, সম্মান পারস্পরিক। আপনি আমাদের সম্মান করেন, আমরাও আপনাদের সম্মান জানাব। আপনি আমাদের রাস্তায় টেনে নিয়ে গেলে, তাহলে আমরাও সহনশীলতা, ভিন্নমত এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সাংবিধানিক ধারণায় ফিরিয়ে আনব আপনাদের। এটা আমাদের ভারত। আমরা অধিকার অনুসারে নাগরিক, চেয়ার, ব্যাজ বা ক্ষমতার পদের করুণার উপর নির্ভরশীল নই। কোনও সরকার, কোনও দল এবং কোনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না যে গণতন্ত্রে কে মর্যাদার যোগ্য।'
এর আগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক একটি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, 'গণতন্ত্র ঝুঁকিতে। অপরাধীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। এজেন্সিগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিক্ষোভকারীদের জেলে পাঠাও। ধর্ষকদের জামিন দাও। এটা বিজেপির নতুন ভারতের সংস্করণ। দেশের বাকি অংশ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেও, বাংলা প্রতিরোধ করবে। আমরা লড়াই জারি রাখব এবং পরাজিত করব, যতই বল প্রয়োগ করো না কেন।'
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, 'এ কেমন ঔদ্ধত্য অমিত শাহ? গণতন্ত্রকে দুমড়ে মুছড়ে ফেলতে দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে আপনার পোষা দিল্লি পুলিশ? আপনি স্পষ্ট ভয় পেয়েছেন স্বীকার করুন। প্রথমে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডির নির্লজ্জ অপব্যবহার করে আর এখন আমাদের ৮ জন সাংসদদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্দোলনের ওপর হামলা চালিয়ে আপনি গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করতে চান? ছিঃ!'
