আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, এই সন্দেহে স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করে বাড়ি থেকে চম্পট দিলেন স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোররাতে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার অন্তর্গত জীবননগর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই মহিলার নাম জেসমিনা বিবি (৩৬)। শনিবার সকালে জেসমিনার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই তাঁর স্বামী তাসিরুদ্দিন শেখ পলাতক। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২২ বছর আগে জীবননগর গ্রামের বাসিন্দা জেসমিনা বিবির সঙ্গে পেশায় দিনমজুর তাসিরুদ্দিন শেখের বিয়ে হয়েছিল। ওই দম্পতির এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। তাঁদের মেয়ের ইতিমধ্যেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে জীবননগর গ্রামে ওই দম্পতির সঙ্গে তাঁদের ছেলে রবিউল শেখ থাকত। শনিবার সকালে জেসমিনা অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় রবিউল মাকে ডাকার জন্য দোতলার ঘরে যায়। সেই সময় খাটের মধ্যে জেসমিনার প্রাণহীন দেহ উদ্ধার হয়। ওই মহিলার গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্ত পুলিশ জানতে পেরেছে। 

মৃত ওই মহিলার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে স্বামী তাসিরুদ্দিনের সঙ্গে ঘুমাতে গিয়েছিলেন জেসমিনা। রাতে ওই দম্পতির মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে গন্ডগোল হয়। মৃত জেসমিনার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গতকাল রাতে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া অশান্তির ঘটনা তাঁরা বুঝতে পারেননি। তবে এলাকাবাসীর অনুমান, ঝড়বৃষ্টির সময়ে তাসিরুদ্দিন স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। 

মৃতের পরিবারের এক সদস্য জানান, সম্প্রতি জেসমিনার সঙ্গে পাঁচপীরতলা গ্রামের এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই তাসিরুদ্দিনের সঙ্গে জেসমিনার প্রায়শই ঝামেলা এবং অশান্তি হতো। সূত্রের খবর, সম্প্রতি তাসিরুদ্দিন জানতে পেরেছিলেন পাঁচপীরতলার ওই যুবকের সঙ্গে জেসমিনা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই কথা জানাজানি হতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছিল। মৃতের পরিবারের সদস্যদের অনুমান, শুক্রবার রাতেও সম্ভবত এই বিষয়টিকে নিয়েই জেসমিনা এবং তাসিরুদ্দিনের মধ্যে গন্ডগোল হয় এবং তারপরেই তাসিরুদ্দিন ,জেসমিনাকে গলা কেটে খুন করে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। 

বহরমপুর থানার এক আধিকারিক জানান, ইতিমধ্যেই তাঁরা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন এবং একটি খুনের মামলা রুজু হয়েছে। যদিও অভিযুক্তের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।