আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে ঘণ্টাখানেকের বৈঠক। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং তৃণমূল ভেঙে তৈরি জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করা হুমায়ুন কবীরের বৈঠক। বাংলার রাজনীতিতে এই বৈঠক, নীতি, নৈতিকতা, সমীকরণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

 

সোমবার প্রতীক উর দল ছাড়ার পর, ফের চর্চায় আসে ওই বৈঠক। চর্চা শুরু হয় জোট নিয়েও। ঠিক এই পরিস্থিতিতে, সোমবারেই সামনে এসেছে, হুমায়ূন কবীরের মন্তব্য। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলার ভোট থেকে বাংলাদেশের ভোট, একাধিক ইস্যুতে মন্তব্য করেন হুমায়ুন। সঙ্গেই সাফ জানিয়ে দেন, সিপিএম-এর আস্ফালন তিনি মেনে নেবেন না কোনও ভাবেই। সেখানেই বোর বার্তা জোট নিয়ে। কাদের সঙ্গে জোট, কত আসলে কোন দলের লড়াই, সেসব জানিয়ে দেন হুমায়ুন কবীর। 

 

সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর নয়া রাজনৈতিক দল কি জোট করছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা দলগুলির সঙ্গে? উত্তরে হুমায়ুন শুরুতে কৌতূহল বজায় রেখে জানান, জানা যাবে সেসব ২১ তারিখে। যদিও তারপরেই বলেন, 'যে পদ্ধতিতে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান এবং তাদের শরিক দল, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি,  শুনেছি যে পরিমাণ সিট ডিমান্ড করছে, শুনেছি আইএসএফ যে পরিমাণ সিট ডিমান্ড  করছে, আমি তাদের সঙ্গে জোট করব না।'

 

শুধু তাই নয়, হুমায়ুন সাফ জানিয়ে দেন, জনতা উন্নয়ন পার্টি মিম-সহ ছোট ছোট সাত-আটটি রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মিলে ঠিক করবে কে কোন কোন জায়গায় কতগুলি আসনে লড়াই করবে। ২৫ তারিখের মধ্যে তা স্থির করে জানিয়ে দেওয়া হবে নিশ্চিত তালিকা। 

 

এদিন সিপিএম'কে একহাত নিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন,  'শূন্যে আছে, আরও মহাশূন্যে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।' 

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বামেদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই, সিপিএমের অন্দরে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রাজ্য রাজনীতিতে তার রেশও ছড়ায় ব্যাপক হারে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশের নেতাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়—এই ধরনের জোট পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও দুর্বল করতে পারে। এক রাজ্য কমিটির সদস্য বৈথকের পর জানিয়েছিলেন, “আইএসএফ-এর সঙ্গে আগের জোটের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে আছে। আবার তেমন কিছু হলে ফল উল্টো হতে পারে।” তার মাঝেই সমবার সামনে এসেছে প্রতীক উরের দল ছাড়ার ঘটনা। তারপর ফের উঠে আসে জোতের প্রসঙ্গটিও। যদিও সোম বিকেলে, এই বিষয়টি পরিষ্কার হল হুমায়ুনের কথাতেই।