আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ষার শুরুতেই এক বুক আশা নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না ওঠায় মন খারাপ ছিল মৎস্য ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রূপোলি শস্যের রসনাপ্রেমীদের।
অবশেষে সেই মেঘ কেটে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রের পর এ বার নদীতেও দেখা মিলছে রুপোলি শস্যের। ভাগীরথী ও হুগলি নদীর অববাহিকায় ছোট মৎস্যজীবীদের জালে উঠছে টাটকা ইলিশ।
সমুদ্র থেকে বেশ খানিকটা দূরে বজবজের অছিপুর। সম্প্রতি সেখানকার মৎস্যজীবীরাও গঙ্গায় জাল ফেলে ইলিশের সন্ধান পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডিম পাড়ার তাগিদেই সমুদ্রের নোনা জল ছেড়ে মিষ্টি জলের নদীর দিকে মুখ বাড়ায় ইলিশ।
সমুদ্র পেরিয়ে সেই মাছই ভাগীরথী হয়ে ঢুকে পড়ছে গঙ্গায়। এক সময় হুগলি নদী হয়ে ফরাক্কা পর্যন্ত মিলত এই মাছ। মাঝের কয়েক বছর সেই ধারাবাহিকতায় ভাঁটা পড়লেও, এ বার বর্ষার শুরু থেকেই নদীপথে ইলিশের দেখা মেলায় নতুন করে বুক বাঁধছেন মৎস্যজীবীরা।
পাশাপাশি সাগর, কাকদ্বীপ ও পাথরপ্রতিমার নদীমোহনা থেকেও ইলিশ মিলছে। তবে নদী থেকে পাওয়া মাছের পরিমাণ বেশ কম। ফলে শুধুমাত্র নদীর ইলিশ দিয়ে বাজারের বিশাল চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। সিংহভাগ যোগানের জন্য এখনও ভরসা করতে হচ্ছে ট্রলারে আসা সমুদ্রের ইলিশের উপরেই। তবে পরিমাণের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও, স্বাদের দৌড়ে নদীর টাটকা ইলিশ যে সমুদ্রের মাছকে টেক্কা দেবে, তা এক বাক্যে মানছেন ভোজনরসিকেরা।
আপাতত বাজারে গিয়ে ইলিশে হাত দেওয়ার জো নেই সাধারণ মানুষের। ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিকোচ্ছে কেজি প্রতি ২০০০ টাকারও বেশি দরে।
৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ কিনতে পকেট থেকে খসছে প্রায় ১৩০০ টাকা। কিছুটা রেহাই মিলছে ৫০০ গ্রামের ছোট মাছে। তবে নদীপথে মাছের আনাগোনা বাড়ায় আগামী দিনে দর কিছুটা হলেও কমতে পারে বলে আশা করছেন মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা।
















