মিল্টন সেন, হুগলি: জ্যান্ত সিঙি মাছ গিলে খেয়ে ফেলেন। আবার জ্যান্তই সেই মাছটিকে বের করলেন। শুধু এদেশেই নয়, উজবেকিস্তানের তাসখন্দে গিয়ে এই খেলা দেখিয়ে এসেছেন পান্ডুয়ার রসিদ। শীতের সার্কাসে মানুষের ঢল হুগলির চুঁচুড়ায়। বছরের শুরুতে জাঁকিয়ে পড়েছে শীত। বছরের শেষে শীত পড়া মানেই ছুটির আমেজ। নলেন গুড়, পিঠে পায়েস, জয়নগরের মোয়া চিড়িয়াখানা আর সার্কাস।
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ অনেক ভেবেচিন্তে পিঠে বা মিষ্টি খান। তবে শীতে একটু ঘোরাঘুরি না করলেই নয়। এসময় বেশ একটা ছুটি ছুটি ভাব থাকে। তাই পরিবার নিয়ে অনেকেই ঘুরতে বেরিয়ে পরেন। আর যারা যেতে পারেন না তারা বাড়ির কাছেই বিনোদন খুঁজে নেন। আর শীতের সেই বিনোদন যদি সার্কাস হয় তো কথাই নেই। যদিও ছোটোদের পছন্দের সার্কাস। তবে বড়রাও সার্কাস উপভোগ করে থাকেন। চুঁচুড়া বাঘাযতিন মাঠে দীর্ঘ দিন পর সার্কাসের তাঁবু পড়েছে।
একটা সময় ছিল সার্কাসে বাঘ সিংহ হাতি গন্ডার শিম্পাঞ্জি দেখা যেত। এখন সেসব অতীত। এখন মূলত জিমনাস্টিকের খেলা দেখা যায় সার্কাসে। আর আছে যোগ ব্যায়ামের সাহায্যে জ্যান্ত সিঙি মাছ গিলে ফেলা! এছাড়াও সার্কাসে ভিড় টানছে মহম্মদ রসিদের এক বালতি জল অনাহাসে খেয়ে ফেলা। তিনটে সিঙি মাছ গিলে ফেলা। আবার পেট থেকে জ্যান্ত মাছ বের করে আনা। রঙিন জল খেয়ে আলাদা আলাদা ভাবে রঙিন জল বের করে দেখানো। রশিদ জানিয়েছেন, পুরো খেলাটাই তিনি দেখান যোগ ব্যায়ামের সাহায্যে। আদতে হুগলির পান্ডুয়ার বাসিন্দা। তেরো বছর বয়স থেকে খেলা দেখাচ্ছেন সার্কাসে। তাঁর মা লায়লা বিবি, বাবা রফিক আলম কুরেশি দু'জনেই এই খেলা দেখাতেন। তাঁদের কাছেই শিখেছেন এই খেলা।
ঝুঁকি আছে, সিঙি মাছ শ্বাস নালিতে আটকে যাওয়ার ভয় আছে। রসিদ বলেন, "সার্কাসের জীবনটাই তো ঝুঁকি। এখানে কোনও ম্যাজিক নেই। খেলা দেখানোর জন্য সারা দিন উপবাস করতে হয়। তিনটে শো শেষ করে তবে রাতে খাওয়া। এই কষ্ট এখন আর কেউ করতে চায় না। তাই সার্কাসে শিল্পীর অভাব।"
অথচ রসিদ দিনের পর দিন এই খেলা দেখিয়ে চলেছেন। তাসখন্দে এক বছর কাটিয়ে এসেছেন। ভারতের সব সার্কাসে কাজ করেছেন। তাঁর মতে সার্কাস ইতিহাস হতে আর বেশি দেরী নেই। এই প্রসঙ্গে টারজান সার্কাসের ম্যানেজার মোল্লা সাদিক রহমান বলেন, "সার্কাসের জন্য মাঠ পাওয়া যায়না এখন। আগে পশু পাখিদের খেলা দেখতে বহু দূর থেকে মানুষ আসত। এখন আসে না। তবে শনি রবিবার ভালো ভীর হচ্ছে চুঁচুড়ার মাঠে। আগামী দিনে হয়ত সার্কাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, যদি না এখনই কিছু ভাবা হয়। সার্কাসের সঙ্গে অনেকের কর্মসংস্থান জড়িত।"
