আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের মল থেকে জৈব সার তৈরিতে এবার মুর্শিদাবাদ পথ দেখাবে রাজ্যকে। পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে এবং কৃষিকাজে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমায় তৈরি হল ‘ফিকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’। কান্দি পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে খড়গপুর আইআইটি ও মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কান্দির গোকর্ণ–২ পঞ্চায়েতের মোতড়া মোড় এলাকায় তৈরি এই প্ল্যান্টের ‘ট্রায়াল রান’ শুরু হল বৃহস্পতিবার। তবে এই প্ল্যান্টটি পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার কান্দি পুরসভা এলাকা থেকে আট গাড়ি বর্জ্য মল নিয়ে এসে তা থেকে জল আলাদা করে জৈব সার তৈরির প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি শুরু হয়।
কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকার জানান, ‘কান্দির পার্শ্ববর্তী খড়গ্রাম, নবগ্রাম, বহরমপুর, বড়ঞা ব্লক থেকে এই প্ল্যান্টের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে। তাই ওই সব অঞ্চল থেকে সহজেই গাড়ি ভর্তি বর্জ্য মল এখানে নিয়ে এসে প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব। এই প্ল্যান্টের পাশেই একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। বর্জ্য মল থেকে জল আলাদা করে সেই পুকুরে ফেলা হবে এবং বাকি অংশ দিয়ে জৈব সার তৈরি হবে। পরবর্তীকালে এই পুকুরের জলে মাছ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। তাই কৃষকদের কথা মাথায় রেখেই জৈব সার তৈরির এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কান্দি পঞ্চায়েত সমিতি ও রাজ্য গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। এই ব্যবস্থাপনায় একদিকে যেমন সেপটিক ট্যাঙ্ক ও ল্যাট্রিন পিটগুলি খালি করা যাবে অন্যদিকে তেমনই তরল এবং কঠিন পদার্থের পৃথকীকরণ ও শোধিত পদার্থের প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হবে জৈব সার। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণমুক্ত হবে পাশাপাশি এর থেকে উপকৃত হবেন কান্দি ছাড়াও খড়গ্রাম, নবগ্রাম,বহরমপুর, বড়ঞা এলাকার বহু মানুষ। বন্ধ হবে যত্রতত্র বাড়ির ভর্তি ল্যাট্রিন পিটের মল ফেলার কুঅভ্যাস।
পার্থপ্রতিম বাবু জানান, ‘খড়গপুর আইআইটি–র সাহায্যে রাজ্য সরকারের অধীনস্ত ম্যাকিনটোস বার্ন কোম্পানি এই প্ল্যান্ট তৈরি করেছে। এই প্রকল্পের জন্য ব্যক্তিগতভাবে এবং ‘সেমি গভর্নমেন্ট মোডে’ বাড়ি থেকে মল সংগ্রহ করা হবে। তারপর এই প্ল্যান্টে এনে জমা করা হবে। এরপর সেখান থেকে জল এবং মল পৃথক করা হবে।’
জল শোধন করার পর তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা হবে এবং মল শুষ্ক ও প্রক্রিয়াকরণ করে তা থেকে চাষের জন্য ব্যবহারযোগ্য সার তৈরি করা হবে।
কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক জানান, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্মল বাংলার ডাক দিয়েছেন এবং শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলকে পরিষ্কার রাখার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তারই অঙ্গ হিসেবে এই প্রকল্প। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকারের একান্ত উদ্যোগে এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় কান্দি ব্লকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সুবিধা আশেপাশের ৪–৫ টি ব্লক ছাড়াও কান্দি এবং বহরমপুর পুরসভার নাগরিকরা পাবেন। এই সমস্ত এলাকা থেকে ‘সেসপুল’ গাড়ির মাধ্যমে মল নিয়ে আসা হবে। তারপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে সেখান থেকে চাষের কাজে ব্যবহারযোগ্য সার তৈরি করা হবে।’
প্রশাসন সূত্রে খবর, মানুষের মল থেকে যে চাষযোগ্য সার তৈরি করা হবে তার দাম সাধারণ চাষিদের নাগালের মধ্যে থাকবে। জৈব এই সার ব্যবহার করে আগামী দিন চাষিরা অধিক ফলন ফলাতেও সক্ষম হবেন। এর সুফল যেমন চাষিরা পাবেন তেমনই বাজারে কমতে পারে শাক সবজির দাম।
