আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনে গতি আনতে এবং কাজের খোলনলচে বদলে ফেলতে নবান্নের তরফ থেকে একযোগে বড়সড় রদবদল করা হল। গত ৯ জুন, মঙ্গলবার রাতে পার্সোনাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আবহ কেটে যাওয়ার পরেই এই প্রশাসনিক রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন এই নির্দেশিকায় আইএএস (IAS) স্তরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে নতুন দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক এই রদবদলে সবচেয়ে নজরকাড়া নাম হলো নন্দিনী চক্রবর্তী। একসময় রাজ্যপালের সচিব পদ থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ সামলানো ১৯৯৪ ব্যাচের এই আইএএস আধিকারিককে এবার জোড়া দপ্তরের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দপ্তরে 'প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর অফ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কস' হিসেবে কর্মরত নন্দিনী চক্রবর্তীকে এবার আবাসন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বায়ো-টেকনোলজি দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নন্দিনী চক্রবর্তীর পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত দপ্তরের সচিব পদেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং পূর্ত দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো। নতুন তালিকা অনুযায়ী, খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের নতুন সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন জগদীশ প্রসাদ মীনাহ। অন্যদিকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি করা হয়েছে সুরেন্দ্র গুপ্তাকে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE) দপ্তরের সচিবের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রণধীর কুমারকে, যার সঙ্গে তিনি অর্থ দপ্তরের সচিব পদের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাবেন। পরিবহন দপ্তরেও বদল এনে ড. রবি ইন্দর সিংকে নতুন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি করা হয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু কল্যাণ, শ্রম, সুন্দরবন উন্নয়ন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া দপ্তরের শীর্ষ পদেও রদবদল করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সম্পূর্ণ জনস্বার্থ ও সরকারি কাজের সুবিধার্থেই রাজ্যপালের নির্দেশ মেনে এই রদবদল করা হয়েছে, যাতে আগামী দিনে সরকারি প্রকল্পগুলোর কাজ আরও দ্রুত গতিতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।