গোপাল সাহা: মাদক পাচার রুখতে আরও শক্তি বাড়াচ্ছে রাজ্য পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার গঠন করছে এক বিশেষ বাহিনী। নাম দেওয়া হয়েছে 'অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স' বা 'এএনটিএফ'। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে জারি হয়েছে। তবে এই বাহিনী ঠিক কীভাবে কাজ করবে, কতজন কর্মী থাকবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক দু’দিনের বাংলা সফরের পরই এই উদ্যোগে গতি এসেছে। 
বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনআইএ-র ডিজি ও রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এর আগেই দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে অমিত শাহ এনসিবি-কে সংগঠিত মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে সীমান্তে মাদক পাচার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পাচারকারীরা পুরনো রুট বদলে নতুন পথ ব্যবহার করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এতদিন মাদক বিরোধী অভিযান মূলত থানা ও এসটিএফের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এবার আলাদা একটা টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। 

নবান্ন সূত্রের খবর, এএনটিএফ রাজ্য পুলিশের এসটিএফের অধীনেই কাজ করবে। যার মাথায় থাকবেন এবং নেতৃত্ব দেবেন একজন আইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। জেলা পুলিশ, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এই বাহিনী। বিশেষ নজর থাকবে বাংলাদেশ সীমান্ত ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে। 

পাশাপাশি সংগঠিত চক্রের বেআইনি টাকার লেনদেন, হাওয়ালা পদ্ধতিতে টাকা পাচার, এই সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটিতেই এই টাস্কফোর্স গড়ে তোলার নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এর তথ্য অনুযায়ী, মাদক পাচার রোধ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই বিশেষ ইউনিটগুলো কাজ করবে। 

পশ্চিমবঙ্গে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টাস্ক ফোর্সের কার্যপ্রণালী নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অতি দ্রুত এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ঘোষণা করা হতে পারে। যা রাজ্য পুলিশকে বেআইনি মাদক পাচার রুখতে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।