আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চলছে শুনানি পর্ব। অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বকে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)–এর শুনানি পর্বে ডাকা হয়েছে। এবার জানা যাচ্ছে, কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গে আরও প্রায় দু’হাজার মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও রাজ্যের কোনও সরকারি কর্মচারী নয়, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদেরই মাইক্রো অবজার্ভার পদে নিয়োগ করা হবে। যেমনটা আগে ছিল। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নবনিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভারদের।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুনানির কাজে গতি আনতেই আরও মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হচ্ছে। শুনানি শুরুর আগে ৪৬০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করেছিল কমিশন। এবার আরও দু’হাজারের কাছাকাছি মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে চলেছে কমিশন।


কমিশন সূত্রে আরও খবর, পশ্চিমবঙ্গে তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকায় রয়েছে ৯৪ লক্ষ জন। এ ছাড়াও, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রয়েছে ৩২ লক্ষ জন। অর্থাৎ, এক কোটি ২৬ লক্ষ জনের শুনানি হওয়ার কথা। শুনানি পর্ব চলছে ১৫–২০ দিন ধরে। জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত শুনানির জন্য ৭০ লক্ষ নোটিশ তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩৪ লক্ষ নোটিশ পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানির কাজ। হাতে বাকি আছে আর মাত্র ২৫ থেকে ২৬ দিন। তার মধ্যে গোটা কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। 


তবে শুধু মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগেই থেমে থাকছে না কমিশন, শুনানির কাজ দ্রুত শুরু করতে বাড়ানো হচ্ছে শুনানি কেন্দ্রও। শুনানির কাজ করছেন এইআরও–রা (সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক)। শুনানি কেন্দ্র বাড়লে এইআরও বৃদ্ধি করা হবে। আর সেই সব কেন্দ্রের জন্য মাইক্রো অবজার্ভারদের সংখ্যা বাড়বে।
কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি শুনানি পর্বেই মাইক্রো অবজার্ভারদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ শুনানির কাজ তদারকি করা ছাড়াও, ভোটারদের দাখিল করা নথির বৈধতাও দেখতে হয় তাঁদের। কমিশন আরও জানিয়েছে, বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও) যে এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজ করছেন, সেগুলি  যথাযথভাবে পরীক্ষা করতে হবে মাইক্রো অবজার্ভারদের। ভোটার তালিকার সঙ্গে জমা দেওয়া জন্ম এবং মৃত্যু নথির মিল রয়েছে কি না, তা–ও যাচাই করার দায়িত্ব মাইক্রো অবজার্ভারদের। শুনানির জন্য ডাক পাওয়া ভোটারদের জমা দেওয়া কাগজপত্র পরীক্ষা করার দায়িত্বও তাঁদের। এমনকী ভোটারদের কোনও দাবি বা কিছু নিয়ে আপত্তি থাকলে, সেই সংক্রান্ত নথি সঠিক ভাবে যাচাই করার কাজও তাঁদের। 


তবে এটা ঘটনা সম্প্রতি কমিশন জানিয়েছিল মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজে তারা সন্তুষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে আরও মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।