আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রয়াত বর্ষীয়ান চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রী। ১০৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বিশিষ্ট এই চিকিৎসক। শতায়ু এই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন পনেরো আগে কলকাতার বালিগঞ্জের বাড়িতে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন চিকিৎসক। তারপর বেশ কিছুদিন ভর্তি ছিলেন শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে থেকে চিকিৎসক মণি ছেত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়েছিল ৷ তারপর রবিবার রাতে বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মণি কুমার ছেত্রীর জন্ম ১৯২০ সালে ২৩ মে দার্জিলিং জেলার তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত 'তিস্তা ভ্যালি টিই'-র এক গোর্খা পরিবারে৷  এরপর দার্জিলিং মিউনিসিপ্যাল ​​প্রাইমারি স্কুল এবং টার্নবুল হাই স্কুলে তিনি প্রাথমিক পড়াশোনা করেন ৷ ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর কলকাতার সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ভর্তি হন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

ডাক্তারিতে স্নাতক হন ১৯৪৪ সালে। ১৯৪৯-এ ডাক্তারিতে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এরপর চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে আরও পড়াশোনার জন্য বিদেশে যান। ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়‍্যাল কলেজ ফিজিশিয়ানস থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন। চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রী লন্ডন থেকে ফিরে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে কর্মজীবন শুরু করেন। যোগ দেন রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে। পরবর্তীকালে কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালেরই বর্তমান নাম এসএসকেএম। এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন সার্জেন সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন তিনি। 

সামলেছেন এসএসকেএম-এর ইনস্টিটিউ অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের কার্ডিওলজি (আইপিজিএমইআর) এবং মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডিরেক্টরের দায়িত্বও। বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজি এবং আইপিজিএমইআর এবং এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তাও ছিলেন ড. মণি কুমার ছেত্রী। এছাড়াও তিনি সামলেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তারও দায়িত্বও।

চিকিৎসক মণি ছেত্রীর হাত ধরেই এসএসকেএম হাসপাতালে তৈরি হয় ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট তথা আইটিইউ সেটআপ। এনডোক্রিনোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, ডায়াবিটিস, রিউম্যাটোলজির মতো আলাদা আলাদা বিভাগ চালু হয়। যা পশ্চিমবঙ্গের কোনও হাসপাতালে প্রথম। 

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ব্যক্তিগত চিকিৎসকও ছিলেন চিকিৎসক ছেত্রী। 

১৯৭৪ সালে ড. ছেত্রী পেয়েছিলেন ভারত সরকারের 'পদ্মশ্রী' সম্মান। এসএসকেএম হাসপাতালের রোনাল্ড রস বিল্ডিংয়ে মেডিসিন বিভাগে তাঁর নামে একটি কেবিনও আছে।

পরিবার সূত্রে খবর, চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রীর দেহ আপাতত তাঁর বাড়িতেই শায়িত থাকবে। পরিবারের অনেকেই উত্তরবঙ্গে থাকেন। তাঁরা কলকাতায় এলে শেষকৃত্য হবে।