আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি বারুইপুরের একটি রাজনৈতিক জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘ভূত’ হয়ে যাওয়া তিন ব্যক্তিকে একসঙ্গে হাজির করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন।
এবার মৃত ভাইয়ের বদলে তাঁর জীবিত দাদাকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের বেওয়া–১ পঞ্চায়েত এলাকায়।
এখন জীবিত বাবুরাম কর্মকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা থেকে নিজের ‘ভূত’ তকমা ঘুচিয়ে ফের জীবিত হওয়ার জন্য প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরছেন। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলে আদৌ বাবুরামের নাম নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় উঠবে কিনা তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
বেওয়া–১ পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বাবুরাম বলেন, ‘গত প্রায় ২০ বছর ধরে আমি পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছি। প্রায় ১৩ বছর আগে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা ভোটার তালিকা থেকে আমার মৃত ভাইয়ের নাম বাদ দেওয়ার পরিবর্তে আমাকে মৃত দেখিয়ে আমার নাম দিয়ে দিয়েছেন। অথচ মৃত ভাই এখনও নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় জীবিত থেকে গেছে।’
বাবুরাম বলেন, ‘ভোটার তালিকায় আমার নাম না থাকায় ২০১৪ সালের পর আমি আর কোনও নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি।’
ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ‘আমাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এই বিষয়টি আমি দীর্ঘ বহু বছর জানতাম না। বছরের বেশিরভাগ সময় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য আমি ভিন রাজ্যে থাকি। ভোটার তালিকায় ‘ভূত’ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পরও বারবার গ্রামে এসে প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে দরবার করা সম্ভব হয়নি। কয়েকবার গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যদের এবং বিডিও অফিসের কর্তাদের গোটা বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরাও বিষয়টি খতিয়ে ‘দেখবেন’ বলে আর কিছু করেননি।’ বাবুরাম আরও বলেন, ‘আমার তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম থাকায় আমার মেয়ের নামও এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে। অথচ ২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় আমি ‘মৃত’ হওয়ায় আমাকে এসআইআর–এর জন্য এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়নি এবং এখনও আমি ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবেই থেকে গিয়েছি।’
ওই ব্যক্তি সংশয় নিয়ে বলেন, ‘অনেকেই বলছেন ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ–সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ভোটার তালিকায় ‘জীবিত’ হওয়ার আবেদন নিয়ে আমার গ্রামের পাঁচ নম্বর বুথের বিএলও–র কাছে গিয়েও আমার সমস্যার সুরাহা করতে পারিনি। ভোটার তালিকায় ‘জীবিত’ হওয়ার আবেদন নিয়ে আমি জাতীয় নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু কোনও তরফ থেকেই এখনও সদর্থক কোনও উত্তর আমি পাইনি।’ গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনও পরিকল্পনা না করেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর লাগু করতে চাইছে। বিজেপি যা বলছে সেই ভাবেই নির্বাচন কমিশন চলছে।’
তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ করেন, ‘বিজেপির নির্দেশে তাড়াহুড়ো করে এসআইআর লাগু করতে গিয়ে প্রচুর নামে ভুল থেকে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত এবং মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখানো হচ্ছে। আমার বিধানসভা এলাকায় বাবুরাম কর্মকার নামে এক ব্যক্তিকে যেভাবে মৃত দেখানো হচ্ছে তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন কমিশন যেভাবে এসআইআর চালু করতে গিয়েছে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আগামী দিন এই তালিকা কতটা মান্যতা পাবে তা নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান।’ গোটা বিষয়টি নিয়ে ফরাক্কার বিডিও জুনায়েদ আহমেদকে ফোন করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
