আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত ‘পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল ২০২৬’-এর তীব্র বিরোধিতা করে একে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ওপর চরম কুঠারাঘাত বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান । বিধানসভায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন তিনি, আগামীকালই রাজ্য সরকার এই বিলটি আনতে চলেছে। এর মাধ্যমে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে আর্থিক ক্ষমতা পুরোপুরি কেড়ে নিয়ে তা সরকারি আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রামীণ গণতন্ত্রের স্বার্থে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে, বিশেষ করে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতেই সিদ্ধান্ত ও আর্থিক পরিচালনার দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে নানা কৌশলে প্রধানদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নানা ধরণের নতুন প্রকল্প ও কর্মসূচির বাহানায় আধিকারিকদের হাতে অর্থ ও ক্ষমতা তুলে দিয়ে বর্তমান সরকার পুরো পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকেই একটি ভঙ্গুর রূপ দিতে চলেছে। ফলে বহু ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রধানদের কাজ করার জায়গা থাকছে না, পরিষেবা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পঞ্চায়েতের মূল ভাবনাই নষ্ট হচ্ছে।

পঞ্চায়েত প্রধানদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ চালিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনও  একটি অঙ্গে সমস্যা হলে তাকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হয় না। রাজ্যে প্রায় চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার পঞ্চায়েত রয়েছে। যদি নির্দিষ্ট কোনও  পঞ্চায়েতে বা প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকে, তবে বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে অডিট করিয়ে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দুর্নীতি দমনের নামে সমস্ত প্রধানের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া কখনোই সমাধানের পথ হতে পারে না। পাশাপাশি স্পষ্ট ভাষায় তোলা হয় যে, বিগত ১৫ বছর ধরে যে আর্থিক দুর্নীতি চলেছে, তা সরকারি আধিকারিকদের যোগসাজশ ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়। তাই আধিকারিকরাও এই দুর্নীতির সমান অংশীদার।

রাজনৈতিক ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় দলকেই একযোগে বিঁধেছেন বাম বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মোটেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তৃণমূলের যেসব নেতা দুর্নীতির অভিযোগে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিলেই রাতারাতি "ভালো" হয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা থমকে যাচ্ছে। বিজেপির এই "দ্বিমুখী নীতি"র বিরুদ্ধে সিপিআইএম জোরালো অবস্থান নিচ্ছে বলে জানানো হয়। সমালোচনা করে স্পষ্ট জানানো হয়, কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান বা প্রয়োজনে পুনর্নির্বাচন করিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সচল রাখা উচিত; কিন্তু হাতের একটি আঙুলে ঘা হলে পুরো হাত কেটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত কোনো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্বে দিল্লিতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশি বর্বরতার কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষার্থীরা যে পথ বেছে নিয়েছেন তাকে সম্পূর্ণ সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে পূর্ণ সমর্থন জানান তিনি। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর যে আক্রমণ চালানো হয়েছে তা কোনও  সভ্য সরকার করতে পারে না উল্লেখ করে বলা হয়, বারবার এই সরকারের আমলে পরীক্ষার সিস্টেমে গলদ তৈরি হচ্ছে যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজেদের ভবিষ্যতের তাগিদেই ছাত্র সমাজ আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শহরেও যে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে তাকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে দিল্লির হামলাকারী নীতির তীব্র ধিক্কার জানান ডোমকলের বিধায়ক।