দীক্ষা ভুঁইয়া: রাজনীতিতে প্রোটোকল, নিরাপত্তা এবং আনুষ্ঠানিকতার নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু কখনও কখনও কিছু মুহূর্ত সেই গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিকতার আলাদা বার্তা দেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে এমন দৃশ্য ফের দেখা গেল জলপাইগুড়িতে।
দক্ষিণ সিকিমের সমরদুং টানেল বিস্ফোরণে নিহত পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন শ্রমিকের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসে থেকে পরিবারের সদস্যদের ডেকে নেওয়ার পরিবর্তে নিজেই উঠে তাঁদের কাছে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন, সমবেদনা জানান এবং সহায়তার আশ্বাস দেন। প্রশাসনিক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও এই আচরণ নজর কেড়েছে উপস্থিত সকলের।
তবে এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়। এর আগেও একই ধরনের মানবিক উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল নবান্ন সভাঘরে। তারাতলার গোডাউন ধসের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের হাতে সরকারি ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার সময়ও নিজের নির্ধারিত আসন ছেড়ে সরাসরি তাঁদের কাছে গিয়ে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদানেই থেমে থাকেননি, পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাঁদের কোনও সমস্যা রয়েছে কি না। আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে সেখানেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে ডেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছিলেন।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই প্রত্যক্ষ যোগাযোগকে অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কাজের ধরণ হিসেবে দেখছেন। সরকারি সহায়তা প্রদানকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর এই ছবি রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি মানবিক সংবেদনশীলতারও প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
জলপাইগুড়ি হোক বা নবান্ন—দুই ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট। সরকারি মঞ্চের নির্ধারিত আসন ছেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে নিজে গিয়ে পৌঁছে যাওয়ার এই সৌজন্য এবং সহমর্মিতার ছবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক আচরণের একটি ধারাবাহিক দিক হিসেবেই উঠে এসেছে।
















