আজকাল ওয়েবডেস্ক: "ফলতা তো স্রেফ শুরু, রেজিনগর আর নন্দীগ্রাম এখনও বাকি আছে! বিরোধীরা কোনও  ভোটেই আর জিততে পারবে না।"— বিধানসভা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ময়দান, রাজকীয় মেজাজে প্রতিপক্ষকে এভাবেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে এক বিশাল জনসভা থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার আরও তীব্র করলেন তিনি।

রাজ্যের বেশ কয়েকটি আসনে উপনির্বাচন এখনও বাকি থাকলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে প্রস্তুত শাসক-বিরোধী সব শিবিরই। তবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে কার্যত আগাম প্রচারের দামামা বাজিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সভা মঞ্চ থেকেই উন্নয়নের ঢালি সাজিয়ে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, উন্নয়ন চাইলে আপনারা পদ্মফুল ফোটান, দু’হাত ভরে যা চাইবেন তাই দেব। শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ সফরের শেষ পর্বে রেজিনগরের এই হাইভোল্টেজ জনসভায় যোগ দেন শুভেন্দু। বক্তব্যের শুরু থেকেই তিনি উপনির্বাচনের কৌশলগত অঙ্ক তুলে ধরেন। একদিকে নিজের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ঘাঁটি নন্দীগ্রাম নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী সুর, অন্যদিকে রেজিনগরকে বিজেপির পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।

সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দুর দাবি, বর্তমানে তাঁর দল বিজেপির কাছে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন রয়েছে। এরপরই তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম তো আমরা জিতবই, ওটা আমার ওপর ছেড়ে দিন। কত ভোটের ব্যবধানে জিতি, শুধু সেটাই দেখার বিষয়। ২০৯ নম্বর আসন নিশ্চিত করার পর ২১০ নম্বর আসন বিজেপি পাবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে রেজিনগরের মানুষের রায় ও বিবেচনার ওপর। জনতার উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রেজিনগরে বিজেপি জয়ী হলে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে এনে এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি একটি নয়, এলাকায় দুটি নতুন ব্রিজ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নাম সরাসরি মুখে না আনলেও তাঁকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন শুভেন্দু। দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যিনি জিতে গিয়ে রেজিনগরকে ছেড়ে দিলেন, তাঁর বিষয়ে এবার মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন। আপনারা কি ধর্মীয় মেরুকরণ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চান, নাকি প্রকৃত উন্নয়ন চান? বিরোধীদের তোলা "বিজেপি এলে সংখ্যালঘু তাড়িয়ে দেবে" মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে তিনি যোগ করেন, পেটে ভাত আর হাতে কাজ— মানুষ এটাই চায়। বিজেপির শাসনকালে হিন্দু-মুসলিম সবাই শান্তিতে ও ভালো আছেন। যাঁরা ভয় দেখিয়েছিলেন, তাঁদের ভুল প্রচার আজ সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দিতে হওয়ায় তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ফাঁকা করেন। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা দুই আসনেই জয়ী হওয়ার পর রেজিনগর কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। ফলে এই দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই তোপ এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রেজিনগরের ভোটব্যাংকে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।