আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ থেকে চেন্নাইতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে 'খুন' হয়ে গেলেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার এক যুবক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই যুবকের নাম আমাই মাঝি (২৮)। বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার হাড়োয়া পঞ্চায়েতের গাম্ভীরা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা আমাই ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর সময়  চেন্নাই-এর কাছে তাম্বারাম নামে একটি এলাকায় বহুতল নির্মাণের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সোমবার বিকেলে সেখানেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

 

 মৃতের পরিবারের অভিযোগ আমাইকে চেন্নাইতে খুন করা হয়েছে।  মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে তারপর মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে আনা হবে। 

মৃত ওই যুবকের বাড়িতে বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রী ছাড়াও তিন নাবালক সন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে  ব্যক্তি ছিলেন আমাই। চেন্নাইতে কাজ করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় অথৈ জলে পড়েছে গোটা পরিবার। চেন্নাই থেকে তাঁর দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসার আর্থিক সঙ্গতি  পরিবারের না থাকায় গোটা গ্রাম মঙ্গলবার সকাল থেকে একত্রিত হয়ে চাঁদা তুলে  অর্থ জোগাড় করে চেন্নাই থেকে তাঁর দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে। 

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চেন্নাইতে আমাই যেখানে কাজ করতেন সেখানে  সুতি থানা এলাকার আরও বেশ কিছু যুবক পরিযায়ী  শ্রমিকের কাজ করেন। সোমবার রাতে তাঁদের কাছ থেকে আমাই-এর মৃত্যুর খবর পেয়েছে ওই পরিবার। যদিও কীভাবে আমাই-এর মৃত্যু হয়েছে তা  সঠিকভাবে তাঁর পরিবারকে জানতে পারেনি বলেই তাঁদের দাবি। 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওড়িশার সম্বলপুরে বাংলাদেশি সন্দেহে সুতি থানার চক বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েলা রানা নামে বছর একুশের এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করে কিছু দুষ্কৃতী।  সেই ঘটনার পর ওড়িশা থেকে পালিয়ে আসতে গিয়ে  সুতি থানা এলাকারই খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ শেখ নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। সুতি থানা এলাকার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায় জুড়ে। 

মৃত ওই যুবকের বৌদি মাধবী মাঝি বলেন,"আমাই খুব ভালো ছেলে ছিল। পরিবারের আর্থিক হাল ফেরানোর জন্য সে চেন্নাইতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে গিয়েছিল। আমাদের সন্দেহ আমাইকে কেউ বা কারা খুন করেছে।  কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে আমরা তার সঠিক তদন্তের দাবি করছি। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে আমাই-এর স্ত্রী এবং তাঁর তিন  সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।"

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাখি রবিদাসের স্বামী তথা  প্রধানের প্রতিনিধি সঞ্জয় রবিদাস বলেন,"সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বারেবারে দেখেছি ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে  বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য মুর্শিদাবাদের বহু পরিযায়ী শ্রমিককে আক্রান্ত হতে হয়েছে এবং কয়েকজন মারা গিয়েছেন। আমাদের সন্দেহ আমাই-এর সঙ্গেও খারাপ কিছু হয়েছে। ওই যুবকের দেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে গোটা ঘটনাটি আমি জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানকেও জানিয়েছি। "

সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস বলেন ,"গোটা ঘটনার কথা আমি শুনেছি। আমাদের সরকার এবং তৃণমূল দল সবরকম ভাবে ওই পরিবারের পাশে আছে। "