আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ। গুরুতর জখম চার। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন উপস্থিত রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য কলকাতা এবং বারুইপুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঝলসে গিয়েছে গাছ। ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে কারখানা। আহতদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা ঘটিয়ে দেখছে বারুইপুর থানার পুলিশ এবং দমকলের আধিকারিকেরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে দু'জনকে বিকেলের দিকে পিয়ারলেস হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের দেহের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। বাকি দুই আহতকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এম আর বাঙুর হাসপাতালে। তাঁদের অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চামপাহাটি হাড়ালে বাজি কারখানায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিল সেই সময় হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘাটে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসে ঘটনাস্থলে এরপর খবর দেওয়া হয় বারুইপুর জেলা পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা সঞ্জীব মণ্ডল বলেন, “এটি বৈধ বাজি তৈরি করার কারখানা প্রতিদিনের মতো আজও এখানে শ্রমিকেরা কাজ করছিল। হঠাৎ এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা ভেঙে পড়ে বাড়ির পাঁচিল। এই ঘটনায় চারজন আহত হয় আহতদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, “শনিবার সকালে চম্পাহাটি হাড়াল এলাকায় একটি বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনার খবর পাই আমরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে এবং আহতদের চিকিৎসা করানোর জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কী কারনে বিস্ফোরণ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও চম্পাহাটির বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই বিস্ফোরণও ঘটেছিল এই হাড়ালেই। বাজি ব্যবসায়ী পিন্টু মন্ডলের বাড়িতে ওই দিন বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়িতে মজুদ রাখা বাজি থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সঙ্গে সঙ্গে আগুনও লেগে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে বাড়িটি। বাড়ির মধ্যে ছিলেন গৃহকর্তা পিন্টু মণ্ডল, শুভঙ্করী সর্দার ও ভক্তি সর্দার। তিনজনেই আগুনে ঝলসে যান। ২০২৩ সালে ত্তপুকুরের নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ন’জনের প্রাণ গিয়েছিল। সেই বছরই পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগের দিনই একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
