আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের নওদা থানা এলাকায় নৃশংসভাবে এক বিজেপি কর্মীকে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই বিজেপি কর্মীর নাম গোপীনাথ হালদার (৪৬)। তাঁর বাড়ি গোঘাটা হালদারপাড়া গ্রামে। 

 

আজ, সোমবার দুপুর নাগাদ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে জলঙ্গি নদীতে গোপীনাথের হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা দেহ উদ্ধার হয়। বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রবিবার গভীর রাতে গোপীনাথবাবুকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তারপর একটি দড়ি দিয়ে তাঁর হাত-পা-গলার সঙ্গে বেঁধে বাড়ির কাছে জলঙ্গি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। 

 

সূত্রের খবর, ওই নদীতে স্রোত না থাকায় দেহটি বেশি দূর ভেসে যেতে পারেনি। সোমবার সকাল থেকে পুলিশ এবং স্থানীয়রা নদীর পাড় বরাবর তল্লাশি শুরু করতেই উদ্ধার হয় বিজেপি কর্মীর দেহ। 

 

মৃত ওই ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ গোপীনাথ জরুরি কিছু কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। গতকাল রাতে তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি। 

 

গভীর রাত পর্যন্ত গোপীনাথ বাড়ি ফিরে না আসায় তাঁর খোঁজে পরিবারের লোকেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর রাতেই পরিবারের লোকেরা নওদা থানার দ্বারস্থ হন এবং একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

 

সোমবার সকালে গোপন সূত্রে কিছু তথ্য পেয়ে নওদা থানার পুলিশ গোপীনাথ বাড়ির কাছেই জলঙ্গি নদীর পার বরাবর নদীর জলে তল্লাশি শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্ধার হয় গোপীনাথের হাত-পা বাঁধা দেহ। 

 

গোপীনাথের খুনের ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই এলাকায় পৌঁছে যান বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন। এলাকায় পৌঁছে পুলিশ এবং মৃতের পরিবারের লোকের সঙ্গে কথা বলে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি জানান, 'গোপীনাথ হালদার আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু কী কারণে আমাদের দলের কার্যকর্তাকে খুন করা হয়েছে তা নিয়ে ধন্ধ রয়েছে। পুলিশ গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ইতিমধ্যে পুলিশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।' 

 

তিনি বলেন, 'আমরা নিশ্চিত এই খুনের ঘটনার পিছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। আমরা চাই অপরাধীদের পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করুক।' যদিও এই খুনের ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে কিনা সেই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি। 

 

তবে নওদা থানার এক আধিকারিক জানান, 'মৃতদেহটি উদ্ধারের পর আমরা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছি এবং খুনের ঘটনার পেছনে একাধিক সূত্র হাতে এসেছে।' ওই অধিকারী জানান, মৃত ব্যক্তির সঙ্গে এক মহিলার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই কারণেও তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন।