আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বীরভূমের সিউড়িতে এক বেসরকারি হাসপাতালের ভিতরে কর্মরত এক নার্সের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাসপাতালের একটি বন্ধ কেবিন থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই নার্সের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মৃতার পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিউড়ি থানার পুলিশ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা বীরভূম জেলার সিউড়ির বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার রাতেও প্রতিদিনের মতোই তিনি ডিউটিতে যোগ দেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাত প্রায় ১১টা নাগাদ তাঁর সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। তখন তিনি জানান, তিনি অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রয়েছেন এবং কাজ করছেন। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে বারবার ফোন করেও কোনও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, হাসপাতালের একটি বন্ধ কেবিন থেকে ওই নার্সের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তাঁর গলায় স্টেথোস্কোপ প্যাঁচানো অবস্থায় দেহটি ঝুলছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেন আত্মীয়-পরিজন ও স্থানীয় মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের বক্তব্য, হাসপাতালের মতো একটি সুরক্ষিত জায়গায় ডিউটিরত অবস্থায় একজন নার্সের মৃত্যু কোনওভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। পরিবারের দাবি, ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে এবং আত্মহত্যার তত্ত্ব মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।

মৃতার বাবা বলেন, “আমার মেয়ে খুব ভালো মেয়ে ছিল। ও ডিউটিতে গিয়েছিল, আত্মহত্যা করার কোনও কারণ ছিল না। ওর কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল না। যে ডিউটিতে ডেকেছিল, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্যিটা সামনে আসুক।” পরিবারের অন্য সদস্যদেরও দাবি, শেষ ফোনালাপে ওই নার্সের কথাবার্তায় কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না। তাই তাঁরা এই মৃত্যুকে রহস্যজনক বলেই মনে করছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছয় সিউড়ি থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। ওই কেবিনে কীভাবে তিনি পৌঁছলেন, সেখানে আর কেউ প্রবেশ করেছিলেন কি না, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও কোনও কথা বা বিবাদ হয়েছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ডিউটিরত অবস্থায় একজন নার্স কীভাবে একটি বন্ধ কেবিনে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। অন্যদিকে পরিবারের একটাই দাবি—দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সকলের সামনে আনতে হবে। এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় বীরভূম জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।