বিউ সরকার: বাংলা জয়ের পুরস্কার? এবার জল্পনা কেন্দ্রে পূর্ণমন্ত্রী হতে চলেছেন লোকসভার সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সেই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক। তাঁর আমলেই এই রাজ্যে বিপুল আসন নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। সেই সাফল্যের জন্যই কী তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হচ্ছে? জল্পনা তেমনই। পাশাপাশি, শোনা গিয়েছে অপর লোকসভার সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-ও এবারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন, এবং পূর্ণমন্ত্রী, যদিও এখনও সবটাই জল্পনার স্তরে রয়েছে। গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে নির্দিষ্ট করে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে বিজেপির বৈশিষ্ট্য একই থাকছে, কারণ, শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় বাংলার সাংসদদের অন্তর্ভূক্তি হয় কী না, তার জন্য চূড়ান্ত ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
বাংলার সাংসদদের এর আগেও মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছে এনডিএ- সরকার। কিন্তু কোনওভাবেই তাঁরা পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা পাননি। থাকতে হয়েছিল রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েই। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব সাফল্যের পরেই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান বঙ্গ বিজেপির কপালে রয়েছে, তেমনই শোনা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বাংলার বিভিন্ন সময়ের প্রতিনিধিত্ব ছিল, মমতা ব্যানার্জি থেকে মুকুল রায় বা আগে পরে প্রণব মুখার্জি বা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মতো পোড় খাওয়া 'পার্লামেন্টেরিয়ান' বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর একা হাতে সামলেছেন। কিন্তু বিজেপির আমলে কোনওভাবেই বাংলার সাংসদদের পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার শিকে ছিড়ছিল না। এবারে সেই খরা কাটতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার একদা বঙ্গ বিজেপির সভাপতি ছিলেন। তাঁর পরবর্তী সময়েই রাজ্য বিজেপির সভাপতি হন শমীক। বালুরঘাট অঞ্চলে শিক্ষক সুকান্ত মজুমদারের জনপ্রিয়তা অনেকটাই। বালুরঘাটের রেল প্রকল্প-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা তাঁর হাত ধরে রাজ্যে এসেছে। অন্য দিকে রয়েছেন সৌমিত্র খাঁ, তিনি বিষ্ণুপুর অঞ্চলের সাংসদ। একাধিকবার জয় পেয়েছেন, পাশাপাশি তিনি বিজেপির খারাপ সময়ের সদস্যও হটে। দীর্ঘ পারিবারিক টানাপোড়েনের পড়েও তিনি রাজনীতি থেকে পিছু হটেননি। বরং তাঁর সাফল্য বিজেপির কাছে উদাহরণ হয়ে থেকেছে। সেই কারণেও এবার সুযোগ বুঝে এঁদের পরস্কার দিতে চাইছে কেন্দ্র?
















