আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে সিজেপি-র আন্দোলন দেশের নানা শহরে ছড়াচ্ছে। জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার কলকাতাতেও আন্দোলনের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই বড় সতর্কবাণী দিলেন রাজ্য বিজেপির তরফে তাপস রায় ও দেবজিৎ মজুমদার। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, "বাংলায় আন্দোলনের নামে অরাজকতা বরদাস্ত নয়।"

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ মজুমদার বলেন, "আন্দোলনের নামে যে ভাবে দিল্লীর রাজপথকে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হল, গাড়ির তেলের ট্যাংক খুলে আগুন দিয়ে দেওয়া হল, সাংবাদিকদের উপর ও মহিলা সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে, শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থা করা হয়েছে, এর পিছনে কারা রয়েছে বিষয়টি দেখা হবে। ছাত্ররা আন্দোলন করতেই পারে কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী যুবদের বাইরেও অনেকে আছে। তাদের কথাও ভাবতে হবে। বাংলায় আন্দোলনের নামে অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। পুরো বিষয়ের উপর নজর রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও প্রশাসন।" 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনার ডাক দিয়েছে কেন্দ্র। এর আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যা নিয়ে এদিন তাপস রায়ের প্রশ্ন, "আপনি চাইছেনটা কি? ইন্ডি জোট কি করতে চাইছে জানে মানুষ। মহুয়া মৈত্র টাকা নিয়ে প্রশ্ন করেন মানুষ জানেন। সেটা শক্তিই এই আন্দোলনে কাজ করছে।"

তাপস রায়ের পরামর্শ, "পশ্চিমবঙ্গের বুকে এই ধরনের কোনও ঘটনা তৈরি করার যদি চেষ্টা করা হয়, সেটা আমরা হতে দেব না। প্রশাসন এই বিষয়ের দিকে কড়া নজর রাখছে। বাংলার মানুষকে সজাগ থাকতে বলব।"

উল্লেখ্য, দিল্লিতে সিজেপি-র 'সংসদ চলো' অভিযানের চতুর্থ দিনে শেষমেশ শুক্রবার বড় বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে পড়ুয়াদের দাবি নিয়ে সরকার 'যে কোনও সময়ে, যে কোনও স্থানে' আলোচনায় বসতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্দোলনকারীদের কাছে গত মঙ্গলবার থেকে এই নিয়ে সরকারি তরফে মোট চার বার আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার আগে এদিনই কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই একথা জানান।