আজকাল ওয়েবডেস্ক:  দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমার চম্পাহাটি এলাকা শনিবার ভরদুপুরে হঠাৎই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। বাজি তৈরির একটি কারখানায় ঘটে যাওয়া ওই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের, আরও তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে টানা ২-৩ বার বিকট শব্দে চম্পাহাটি ও আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। শব্দ শুনেই এলাকাবাসীরা বাইরে বেরিয়ে দেখেন, একটি বাজি তৈরির কারখানায় আগুন ও ধোঁয়া বেরোচ্ছে। সেখানে কাজ করছিলেন চারজন শ্রমিক। বিস্ফোরণে তাঁরা গুরুতরভাবে আহত হন।


আহতদের মধ্যে ছিলেন ৩৫ বছর বয়সি গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়। বিস্ফোরণের তীব্র লেলিহান আগুনে তাঁর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ ঝলসে যায়। প্রথমে তাঁকে ও অন্য আহতদের দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু গৌরহরির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁকে কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। রবিবার সকালে মৃত্যু সংবাদ পৌঁছাতেই তাঁর পিয়ালি এলাকার বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।


অন্য তিনজনের মধ্যে কিষাণ মণ্ডল ও রাহুল মণ্ডলের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। কিষাণকে ইতিমধ্যে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন। রাহুল ও আরেক আহত শ্রমিকের চিকিৎসাও চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ধাক্কা ও আগুনে আহতদের ফুসফুস, চোখ ও ত্বকে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।


বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কারখানার পাশাপাশি আশেপাশের আরও তিনটি বাড়ির দেওয়াল ও জানালার কাচ ভেঙে যায়। এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, ওই কারখানায় অনিয়মিতভাবে বিপজ্জনক বাজি তৈরি হতো। কারখানার মালিক বিধান মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। বিস্ফোরণের পর থেকেই তিনি পলাতক। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।


ঘটনার পর বারুইপুর জেলা পুলিশ পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং কারখানা সিল করে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ, উপকরণ এবং কারখানার বৈধ লাইসেন্স ছিল কি না—সবই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বাজি তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানা হয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কারখানা মালিককে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চলছে।

 


এদিকে রহস্যজনক এই বিস্ফোরণ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—উৎসব মরসুমে বা তার আগেই গোপনে বেআইনি বাজির উৎপাদন বাড়ছে কি না। স্থানীয়দের বক্তব্য—যথাযথ নজরদারি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।