আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল সরকারের আমলে শুরু হওয়া ‘বাংলার বাড়ি ’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়া উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে অর্থ ছাড়ের আগে বিজেপি সরকার পূর্বতন সরকারের প্রকল্পের উপভোক্তাদের পুনরায় সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। উদ্দেশ্য, প্রকল্পে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি বা অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ির লেন্টেল স্তর পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলে দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কারণে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণ স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমানে সেই অর্থ প্রদানের প্রস্তুতি শুরু হলেও তার আগে উপভোক্তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রকল্পে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি বা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ পেয়েছেন কি না, তা সমীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে। প্রশাসনের একাংশের মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সমীক্ষায় যদি দেখা যায় কোনও ব্যক্তি অনিয়ম বা ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম কিস্তির অর্থ পেয়েছেন, তাহলে তাঁর কাছ থেকে সেই অর্থ ফেরত চাওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁকে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থও দেওয়া হবে না।
এছাড়া প্রথম কিস্তির পর যাঁদের মৃত্যু হয়েছে অথবা অন্য রাজ্যে স্থায়ীভাবে চলে গিয়েছেন— বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে স্থানান্তরিত হয়েছেন— এমন উপভোক্তাদেরও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, প্রায় ৫৯ হাজার উপভোক্তার নাম এই কারণে বাদ যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সরকার কেন্দ্রীয় আবাস প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ থাকায় রাজ্যের নিজস্ব উদ্যোগে ‘বাংলার বাড়ি ’ প্রকল্প চালু করেছিল। প্রথম দফায় ১১ লাখের পরে দ্বিতীয় দফায় ২০ লাখ মানুষকে এই পরিষেবা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমীক্ষা করে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় এনে টাকা দেওয়া হয়েছিল। কারণ দুর্নীতির অভিযোগ আসতে থাকায় কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে গত কয়েক বছর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ থাকায় রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
















