আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাজ্যে ফেল বিএলও’‌র মৃত্যু। জানা গেছে, অসুস্থ হয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মালদার ইংরেজবাজার পুরসভার ফুলবাড়ি পাকুরতলা এলাকার ঘটনা। 


মৃতার নাম সম্পৃতা চৌধুরী সান্যাল। বাড়ি পাকুরতলা এলাকায়। পেশায় আইসিডিএস কর্মী। ইংরেজবাজার পুর এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৩ নম্বর বুথে বিএলও’‌র দায়িত্বে ছিলেন তিনি। 


তার স্বামীর অভিযোগ, প্রচণ্ড কাজের চাপ ছিল। তার মধ্যে আবার তীব্র শীত পড়েছে। যার ফলে গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। চিকিৎসক দেখিয়েছিলেন। বিশ্রামও নিতে বলেছিলেন। কিন্তু এসআইআর এর কাজের চাপ প্রচন্ড ছিল। এতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বুধবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। 
খবর পেয়েই তাঁর বাড়িতে ছুটে যান ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গায়েত্রী ঘোষ। কাউন্সিলর এর অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত চাপের ফলেই বিএলও’‌রা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যার পরিণতি এই মৃত্যু। পাল্টা বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অযোগ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‌যেকোনও মৃত্যু দুঃখজনক। তবে সব দায় নির্বাচন কমিশনকে চাপিয়ে দিলে হবে না। তৃণমূলের যারা জনপ্রতিনিধি বা নেতৃত্ব আছে তারাও বিএলও দের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। হলে এইসব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।’‌ 


পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন সম্পৃতা। চিকিৎসকও দেখাচ্ছিলেন। তবে বুধবার ভোরে নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতার স্বামীর আরও দাবি, এসআইআরের কাজের সঙ্গে আশাকর্মীর কাজ সামলাতে হচ্ছিল সম্পৃতাকে। এত কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসক তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এসআইআরের কাজের চাপে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল না।


প্রসঙ্গত, এই নিয়ে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত এসআইআর পর্বে সাত জন বিএলও’‌র মৃত্যু হল। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরুর চার দিন পর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ‘কাজের চাপে’ মৃত্যু হয় পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদার। এর ১০ দিন পরে জলপাইগুড়িতে এক বিএলও মারা যান। অভিযোগ, কাজের চাপে আত্মঘাতী হন ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা–বাগান এলাকার বাসিন্দা শান্তিমুনি ওঁরাও। এর পরে ২১ নভেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হন এক বিএলও। নাম রিঙ্কু তরফদার। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তার পরে মুর্শিদাবাদে হৃরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাকির হোসেন নামে এক বিএলও। গত ২৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হারাধন মণ্ডল নামে এক বিএলও–র আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। গত শনিবার মৃত্যু হয় কোচবিহারের আশিসের। সেই ঘটনার চার দিনের মধ্যে রাজ্যে আরও এক বিএলও’‌র মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।