রিয়া পাত্র
প্রতীক উর রহমান। সোমবার দলকে পাঠিয়েছেন পদত্যাগ পত্র। সোমবারেই তাঁর একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকে তোলপাড় বাম রাজনীতি। কেন এই মন কষাকষি? সেসব পেরিয়ে তিনি কি এবার তৃণমূলে? প্রশ্ন হাজার। বেলায় বেলায় বাড়ছে জল্পনাও। সেসবের মাঝেই সামনে এসেছে আরও বড় তথ্য। খোদ প্রতীক উর জানিয়েছেন, দলের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসুকে দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলেছে। যোগাযোগ করেছেন আরও বহু নেতা, বন্ধু, সহযোদ্ধা।
তাহলে কি প্রতীক উর মন কষাকষি ভুলে বসবেন আলিমুদ্দিনে। আজকাল ডট ইন প্রশ্ন করতেই, আরও বিস্ফোরক প্রতীক উর। গলায় ঝাঁঝ স্পষ্ট। স্পষ্ট 'আমার কিছু যায় আসে না' বডি ল্যাঙ্গুয়েজও। কী বলছেন?
প্রতীক উর সাফ জানান, বহুজন যোগাযোগ করার পরে, বসা উচিৎ। তাহলে কিন্তু কিসের?
তিনি বলছেন, 'আমি দলকে পদত্যাগ পত্র পাঠালে, তা সামনে চলে আসে। দলের অভ্যন্তরীণ বলে কিছু নেই। আমি যে বিমান বসুর সঙ্গে কথা বলব, তা যে জন সমক্ষে চলে আসবে না তার গ্যারান্টি আছে কি?'
এখন পদক্ষেপ কী?
প্রতীক উর বলছেন, তিনি অপেক্ষা করবেন। দেখবেন যাঁদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, যাঁরা দলের হাঁড়ির খবর বাইরে এনে ফেলছেন বারবার, তাঁদের বিরুদ্ধে দল কী অবস্থান নেয় তা দেখার। বলছেন, 'যদি দেখি দল কোনও অবস্থান নিচ্ছে না, তখন বুঝতে হবে কাউকে আড়াল করার প্রক্রিয়া চলছে। আমি আগে সেটা দেখব।'
উল্লেখ্য, প্রতীক উর ইস্তফা পত্রে লিখেছেন, 'আমি প্রতীক উর রহমান। পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী। সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টি ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব তৎসহ পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্য়াহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্ত সকলকে অবগত করলাম।'
প্রতীক উর নিয়ে ধাঁধা রাজ্য রাজনীতিতে। কী বলছেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। বন্ধুর সঙ্গে কথা হল? তিনিও কি খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না দলের সঙ্গে? সৃজনও কি এক পা এক পা করে এগোচ্ছেন তৃণমূলের দিকে? একাধিক প্রশ্ন। উত্তর জানতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল সৃজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে।
প্রতীক উরের পদত্যাগ, শুনেই প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
সৃজন বলছেন, 'আমি ফেসবুকে দেখলাম এইরকম একটি চিঠির কথা। ওর সঙ্গে আমার দীর্ঘ সময়ের কাজ করার অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা বলে, ও একজন সৎ, লড়াকু, নির্ভীক কমরেড ছিল। ২০০৮-০৯ সাল থেকে নানা সময়ে, নানা আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে নেতার ভূমিকা পালন করেছে। খেয়াল রাখতে হবে, প্রতীক উর কিন্তু কেবল দলের সুসময়টুকুর কর্মী নয়, ও বাম আন্দোলনের দুঃসময়ের নেতা। খুব উথালপাথাল কোনও দুঃখকষ্ট মনের মধ্যে তৈরি না হলে ওর এমন চিঠি লেখার কথা নয়।'
















