আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন চেয়ে প্রতিটি বিধানসভায় 'যাত্রা' করতে চলেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির তরফে যাকে বলা হচ্ছে 'পরিবর্তন যাত্রা'। শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে একথা জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি এবং সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। আগামী মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডে জনসভার আগে এই যাত্রা করতে চলেছে বিজেপি। 

শমীক বলেন, "১ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। মোট ৯টি যাত্রা হবে।‌ মাঝে ৩ এবং ৪ মার্চ দোল উৎসবের জন্য বন্ধ রাখা হবে।‌ এরপর ৫ মার্চ থেকে ফের যাত্রা হবে। প্রতিটি বিধানসভায় ট্যাবলো সহযোগে প্রচারাভিযান হবে। মার্চ মাসের শেষে যাত্রা সমাপ্ত হবে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা দিয়ে।''

এই যাত্রায় একদিকে যেমন থাকবেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব তেমনি থাকবেন বিজেপির হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরা। শমীক জানান, "বিজেপির ৯ জন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই যাত্রায় থাকবেন। এঁরা হলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতিন নবীন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গরকরি ও ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাড়াও থাকবেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, স্মৃতি ইরানি'র মতো নেতৃবৃন্দ, শিবরাজ সিং চৌহান। ৬৪টি বড় সভা হবে।" 

উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ। দু'জায়গা থেকেই হবে এই যাত্রার সূচনা। উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, গড়বেতা, রায়দিঘি এবং কুলটি থেকে শুরু হবে এই যাত্রা। যাত্রাপথে বিভিন্ন বাজার ও অন্যান্য এলাকা যেখানে জনসমাগম হয় সেখানেই হবে সভা। 

শমীকের দাবি, এই রাজ্যে একটা 'আধিপত্যবাদ' সরিয়ে আরেকটা আধিপত্যবাদ এসেছে। কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফলে সত্যিকারের পরিবর্তন চেয়েই এই যাত্রা হবে। যেখানে প্রতিটি বিধানসভার ওপর দিয়ে যাত্রা করা হবে। 

বিজেপির এই যাত্রাকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "বাংলার মানুষ কখনোই কোনও ধর্মীয় একাধিপত্যকে মেনে নেয়নি এবং মেনে নেবেও না। যারা বাংলাকে অপমান করে বা হিন্দিকে চাপিয়ে দিতে চায় তাদেরকে বাংলার মানুষ যুগে যুগে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপির হাতে আর কিছু অস্ত্র নেই। এসআইআর ব্যর্থ কারণ  ১ কোটি ২০ লক্ষ রোহিঙ্গা পাওয়া যায়নি। সেইসঙ্গে এরাজ্যের মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণের জন্য ফুঁসছেন। সঙ্গে চলছে দমন পীড়ন। স্বাভাবিকভাবেই যখন হাতে আর কিছু অস্ত্র নেই সেজন্যই এই সমস্ত যাত্রার আয়োজন করছে বিজেপি।"