দীক্ষা ভুঁইয়াঃ রাজ্যের নগর এলাকাগুলিতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চলেছে। বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি বাড়াতে প্রতিটি পরিবারকে একটি কিউআর (QR) কোড-এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহকারী সমস্ত গাড়িতে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকার বসানো হবে। বর্জ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা এবং পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
আজ, শুক্রবার, বাজেট সংক্রান্ত আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি বাড়ি থেকে একশো শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ, উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথকীকরণ, প্রতিদিনের বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকরণ, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা লেগ্যাসি বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক পুনর্ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে রাজ্যের সমস্ত আঞ্চলিক পৌরসংস্থায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। এই কর্মসূচিতে প্রায় ৭৫ হাজার ‘নির্মল বন্ধু’ এবং ৬ হাজার ‘নির্মল সাথী’ বর্জ্য সংগ্রহ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে যুক্ত রয়েছেন। সরকারের দাবি, অধিকাংশ এলাকায় ইতিমধ্যেই বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এবার উৎসস্থলেই ১০০ শতাংশ বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি আঞ্চলিক পৌরসংস্থায় ফ্রেশ ওয়েস্ট প্রসেসিং প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। আরও ৬৭টি প্ল্যান্ট নির্মাণাধীন, যা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। পাশাপাশি আরও ৩২টি নতুন প্রসেসিং প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
শহরাঞ্চলের অন্যতম বড় পরিবেশগত সমস্যা লেগ্যাসি বর্জ্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অপসারণের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। এর ফলে নগর জমি পুনরুদ্ধার, দুর্গন্ধ ও দূষণ হ্রাস এবং ভূগর্ভস্থ জলের দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের দাবি। এই কাজ ৩১ মে, ২০২৭-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সমস্ত আঞ্চলিক পৌরসংস্থায় বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা, মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (MRF), বিকেন্দ্রীভূত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ, কম্পোস্টিং, বায়ো-সিএনজি উৎপাদন এবং সার্কুলার ইকোনমি-ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নাগরিকমুখী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে অনলাইনে অভিযোগ জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা যায়।
















