আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর শুনানি শিবিরে হাজির একাধিক ব্যক্তিকে সিএএ-তে আবেদন করার কথা বলছেন এইআরও৷ এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা থানার হেলেঞ্চা গার্লস হাইস্কুলে৷ তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয় শুনানির ঘরের সামনে৷ যদিও বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
জানা গিয়েছে, বাগদা ব্লকের আষারু গ্রাম পঞ্চায়েতের হামকুড়ো এলাকা থেকে কমলেশ ঢালি, দীপক ঢালি এদিন শুনানিতে হেলেঞ্চা গার্লস হাই স্কুলে গিয়েছিলেন৷ তাঁরা এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন৷ দু'জনে জানিয়েছেন, তাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকার জন্য মঙ্গলবার তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তাঁরা এদিন সকালে হেলেঞ্চা বালিকা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এইআরও তাপস কুমার বিশ্বাসের কাছে হাজির হন ৷ তাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড, জমির দলিল সবকিছুই আছে বলে তাঁরা জানান৷ দীপক ঢালির অভিযোগ, তিনি যখন এইআরও-র কাছে যান তখন ওই আধিকারিক তাঁর কোনো নথি না দেখেই তাঁকে সিএএ-তে আবেদন করার কথা বলেন। এইআরও-র এই কথার প্রতিবাদ জানান দীপক ঢালি ও তাঁর ভাই।
শুনানি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেন দীপক। তাঁর অভিযোগ, একজন এইআরও কর্তব্যরত অবস্থায় কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন? পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন, অভিযুক্ত এইআরও বিজেপির দালালি করছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এইআরও-র বিরুদ্ধে বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান দীপক।
খবর পেয়ে স্কুলের সামনে তৃণমূলের সহযোগিতা ক্যাম্পে বসে থাকা কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাগদা থানার পুলিশ৷ কিছু সময়ের জন্য তাপস কুমার বিশ্বাসকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়৷ যদিও পরে তিনি ফের ওই ঘরে ফিরে আসেন৷
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাগদা (পূর্ব) ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কিংকর মন্ডলের অভিযোগ, অভিযুক্ত তাপস কুমার বিশ্বাস শুনানি কেন্দ্রে বসে বিজেপির হয়ে দালালি করছেন। বিডিওর কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এইআরও তাপস কুমার বিশ্বাসের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিজেপি। বনগাঁ জেলার বিজেপি নেতা অমৃতলাল বিশ্বাস বলেন, সংসদে সিএএ পাস হয়েছে এবং আইন তৈরি হয়েছে। শুনানি কেন্দ্রে ওই এইআরও যা বলেছেন তা একদমই সঠিক। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদেরও সিএএতে আবেদন করতে হবে। যদিও তাপস কুমার বিশ্বাস এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
