আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমে কলকাতা, মঙ্গলে কোচবিহার। জেলা জেলা ঘুরে, অভিষেকের বার্তা। বার্তায় একযোগে কেন্দ্র, বিজেপিকে তুলোধোনা। বার্তায় ফের প্রত্যাবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির ঘুরে এদিন জনসভায় যোগ দেন অভিষেক।
মঙ্গলের বক্তব্যে একেবারে শুরু থেকেই গেরুয়া শিবিরকে একহাত নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। সঙ্গেই বাংলাভাষীদের হেনস্থার প্রসঙ্গ উঠলে এল, এল বাঙালি অস্মিতার কথা, কোচবিহারের উন্নয়নের কথা। এদিন সভামঞ্চ থেকেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন, 'কোচবিহারের সার্বিক উন্নয়নের দায়ভার আমার কাঁধে তুলে নিচ্ছি।' এদিন তিনি বলেন, 'মানুষ নির্বাচিত করে আমাদের পাঠিয়েছে, আমরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি, আগামী দিনে কোচবিহারের সার্বিক উন্নয়ন মা-মাটি-মানুষের সরকারের দায়িত্ব এবং এখানে যেমন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আছেন, আমি নিজে কোচবিহারের সার্বিক উন্নয়নের দায়ভার আমার কাঁধে তুলে নিচ্ছি, আজকের এই সভায় সকলকে সাক্ষী রেখে। যে ভালবাসা আপনারা দিয়েছে, সেই ঋণ আমরা আগামিদিনে উন্নয়নের মাধ্যমে পরিশোধ করব।'
শুরুতেই তৃণমূল সাংসদ বলেন, 'বাংলার উপর যাঁরা ধারাবাহিক হামলা করে, মানুষকে নিপীড়িত করে রাখার চেষ্টা করে, বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে ভাষা বিহারাগত জমিদারেরা বোঝে, তাদের সেই ভাষায় আগামী দিনে জবাব দেবে। মানুষ প্রস্তুত।' শুধু তাই নয়, একেবারে সরাসরি অভিযোগ, বিজেপি ওই জায়গাকে নিয়ে বছরের পর বছর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা স্রেফ মুখের কথা হয়ে রয়ে গিয়েছে। একেবারে তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, '২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১,২০২৪— বিজেপির নেতারা সভা সমিতি করতে এসে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপির বড় নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন, চিলা রায়ের নামে প্যারামিলিটারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পঞ্চানন বর্মার নামে লাইব্রেরি, মদনমোহন মন্দিরকে আন্তর্জাতিক মন্দির হিসাবে ঘোষণা করা। কোচবিহার রেল স্টেশনে ২০২১ সালে স্পোর্টস হাব তৈরি বলে যে শিলান্যাস করেছিল, ফলকে শ্যাওলা পড়ে গিয়েছে। বলা হয় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হবে কোচবিহারে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি ৯ আসনের বিমান চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে তা-ও বন্ধ হতে চলেছে। বিজেপি ভোতে জেতার পর কোচবিহারের মানুষকে শুধুমাত্র এসআইআর-এর আমধ্যমে বা অসমের ফরেন ট্রাইব্যুনালের ণোটিস পাঠিয়ে অপমানিত করেছে, তাঁদেরকে শোসিত করে রেখেছে, অধিকারের টাকা আটকে।'
বক্তব্যের মাঝেই, এদিন ফের অভিষেক মঞ্চে ডাকেন দশ জন'কে। কারা তাঁরা? ওই দশজন হলেন- অশ্বিনী অধিকারী, শিবানী অধিকারী, কাজিমা খাতুন, আলিমান বেওয়া, মুকুল দেব কর্মকার, মুর্শিদ আলম, আবুজার মিয়াঁ, আজিজার রহমান, তপন বর্মন। কেন তাঁরা মঞ্চে? অভিষেক তাঁদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে বললেন, 'দেখতে পাচ্ছেন সবাইকে? দেখা যাচ্ছে সবাইকে? নাকি আমাকে একা দেখছেন? সকলেই কোচবিহার জেলার মানুষ। এই মাটিতে জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, এই মাটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। এই ১০ জনকে বিজেপির দালাল নির্বাচন কমিশন আর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। এই ১০ জনকে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। বলেছে এঁদের কোনও অস্তিত্ব নেই। মৃত।' তাঁদের সকলের সামনে এনে অভিষেকের প্রশ্ন, 'কোচবিহারের মানুষকে যাঁরা বঞ্চিত করেছেন, তাঁদের জবাব দেবেন না? '
তিনি এদিন বলেন, 'আমাদের জল-কল-রাস্তার টাকা কেবল মোদি-শাহের সরকার বন্ধ করে রাখেনি, আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে। আগামীর লড়াই এদেরকে উপড়ে ফেলার লড়াই।' এই ভোটে, কোচবিহারের ন'টি আসনের কথা উল্লেখ করে স্কোর মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, বিজেপিকে যত যেতাবেন মানুষ, তত বঞ্ছিত থাকবেন নিজেদের অধিকার থেকে। তিনি বলেন, 'রক্ত গরম হয় না? বিজেপির নেতারা এত দিন যাঁরা কোচবিহারে ছিল, ২০২১ থেকে ২০২৬। ২০২১ সালে সাত জন বিধায়ককে জিতিয়েছিলেন। পরবর্তী কালে দিনহাটা উপনির্বাচনে তৃণমূল জেতে। আজ স্কোর কী? ৯টার মধ্যে তিনটি আসনে তৃণমূল, ছ’টি বিজেপি। বিজেপি-কে জেতাবেন, অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। তৃণমূল যত দিন ছিল, সাধারণ মানুষের উপর চোখ তুলে তাকানোর দুঃসাহস দেখাননি বিজেপির নেতারা দিল্লি বা মধ্যপ্রদেশ থেকে।' সঙ্গেই বলেন, '৯টার বিধানসভার মধ্যে ৬-৩ নয়, তৃণমূলের পক্ষে ৯-০ করতে হবে। সব আবর্জনা উপড়ে ফেলতে হবে। সাফ করতে হবে।'
নিজের জনসভার বিপুল জমায়েত, আর তা নিয়েই অভিষেক বলেন, 'আমি কথা দিচ্ছই তৃণমূল দিল্লি যাবে। আজ মাঠে যা লোক হয়েছে, দিল্লির নেতাদের বলব, খালি ছবি সংবাদমাধ্যমে দেখবেন। রাতের ঘুম চলে যাবে।'
