আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবারেই পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সোনালি খাতুন। অভিষেক সোমেই শুভেচ্ছা জানান। সঙ্গেই জানান, মঙ্গলে বীরভূম সফরের মাঝেই দেখা করবেন সোনালি খাতুনের সঙ্গে। মঙ্গলবার, বীরভূমের সভার পরে, অভিষেক দেখা করেন সোনালি খাতুনের সঙ্গে। তাঁর ছেলের নামকরণ করেন। নাম রাখেন 'আপন'।
এদিন নামকরণ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, 'সোনালি এবং ওঁরা মা আমাকে অনুরোধ করেছেন, বাচ্চাটার নাম রাখার জন্য। আমি ওঁদেরই প্রথমে অনুড়েওধ করি, আপনারা যে প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন আপনাদেরই উচিত বাচ্চাটার নাম রাখার। তারপরেও তাঁরা আমাকে অনুরোধ করেন। আমি বাচ্চাটির নাম রেখেছি আপন। কারণ যেভাবে পর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে, এরা সকলেই আমাদের আপন। তাই বাচ্চাটার নাম রাখা হয়েছে।'
সোনালির সঙ্গে সাক্ষাতের পর অভিষেক বলেন, 'গোটা পরিবারকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে, সবাই দেখেছেন। আমার সোনালির সঙ্গে ফিরে আসার পর দেখা করার কথা ছিল। একটা শারীরিক সমস্যার কারণে আমি জানিয়েছিলাম বাসে-ট্রেনে এসো না। আমার আজ নির্ধিরিত কর্মসূচি ছিল। কাল বাচ্চাটির জন্ম হয়েছে।'
তারপরেই অভিষেক বলেন, 'যে সমস্ত কথা আমি সোনালির মুখে শুনলাম, যেভাবে ওঁদের হেনস্থা করা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ, তারপর জোর করে বিএসএফ'কে দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করানো এবং অন্তঃসত্বা মহিলা, তাঁকে লাঠি দিয়ে মার। আর কেবল শারীরিক অত্যচার তো নয়, মানসিক অত্যাচারও। রাতের পর রাত নদী, জঙ্গল পেরনো। পরবর্তীকালে ঢাকায় গিয়ে পৌঁছয়। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে, বাংলাদেশের জেলে তারা মাসের পর মাস কাটিয়েছে। তারপর দেশের হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্টের আদেশে চাপে পড়ে তাকে আনতে বাধ হয়েছে। যদিও কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে কোনও রকম কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি।'
ঘটনায় বিজেপিকে একহাত নিয়ে অভিষেক বলেন, 'মানুষের কষ্ট, চোখের জলের মূল্য, বিজেপিকে, কেন্দ্র সরকারকে চোকাতে হবে।' তিনি এদিন সমস্ত নিয়ম মেনে সোনালির সঙ্গে দেখা করেন এবং সংক্রমণের ভয়ে, তিনি বাচ্চাটির সঙ্গে দেখা করেননি বলেও জানান। তিনি কয়েকমাসের মধ্যে সোনালিদের বাড়িতে গিয়ে দ্যাখা করবেন বলেও জানান। দানিশ প্রসঙ্গেও জানান, দল সর্বোতভাবে সাহায্য করবে, সহযোগিতা করবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব দানিশকে ফিরিয়ে আনা যায়।
এর আগে, সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক পোস্ট করে লেখেন-'বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে সোনালি খাতুন একটি সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জেনে আমি গআনন্দিত। তাঁর উপর যে অবিচার করা হয়েছিল সেই প্রেক্ষিতে এই আনন্দ আরও বেশি।' নিজের পোস্টেই অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্র সরকার সোনালিকে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে জোর করে সে দেশে পাঠিয়েছিল।সোনালির পরিস্থিতি উল্লেখ করে অভিষেক লিখেছেন, 'এটি মানবতার জয়। আগামিকাল, বীরভূম সফরের সময়, আমি ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে সোনালি এবং তার নবজাতকের প্রতি আমার শুভকামনা জানাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করব। আমার প্রার্থনা তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকবে।'
