আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। অস্বস্তি আরও বাড়ল। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রেই এবার জোড়া মামলায় নাম জড়াল তাঁর।
মাটি চুরি এবং আমফানের ত্রাণে দুর্নীতির অভিযোগে অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। থানায় জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কালীতলা-আশুতি থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতেই রুজু হয়েছে এফআইআর।
অন্যদিকে, আমফানের ত্রাণ বন্টনে দুর্নীতির অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, নিজের গড়েই আইনি গেরোয় তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
এর আগে, রবিবার অভিষেক ব্যানার্জি চিঠি দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকারকে। সেই চিঠি স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেন সাগরিকা ঘোষ, কীর্তি আজাদ। ঠিক তার পরের দিন, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে তলব করে ইডি। যখন অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, তখনই মেল আসে দিল্লি থেকে।
লোকসভার দল ভাঙানোর খেলা রুখতে রবিবারেই কোমর বেঁধে নেমেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এআইটিসি সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠান দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল সংসদীয় দলের নেতা অভিষেক ব্যানার্জি। সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছড়াচ্ছিল যে, লোকসভায় তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদ নাকি নিজেদের মূল দল থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা উপদল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সরাসরি স্পিকারের দরবারে কড়া আইনি বার্তা পাঠান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
অভিষেক ব্যানার্জি তাঁর চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দৃঢ় ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অখণ্ড এবং অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। আইন অনুযায়ী, লোকসভার পরিষদীয় দল কখনই মূল রাজনৈতিক দলের বাইরে স্বাধীন কিছু নয়, বরং সেটি মূল দলেরই একটি অংশ মাত্র। তাই কয়েকজন সাংসদ নিজেদের ইচ্ছামতো দল থেকে বেরিয়ে এসে আলাদা কোনও গোষ্ঠী তৈরি করতে পারেন না এবং সংসদের ভেতরে তেমন কোনও স্বতন্ত্র স্বীকৃতিও দাবি করতে পারেন না। দল ও দলের হুইপের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত।
অন্যদিকে, তারপরেই জানা যায়, সাংসদরা পৃথক গোষ্ঠী তৈরি না করে, তাঁরা সরাসরি মিশে গিয়েছেন অন্য একটি দলের সঙ্গে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, লোকসভার স্পিকার সব পক্ষের সঙ্গে বসেই কথা বলতে চাইছেন, সেই কারণেই অভিষেককে তলব করা হয়েছে বলে তথ্য।















